ফ্রিজে রাখা মাংস খেতেই মৃত্যু এক সরকারি কর্মীর, পরিবারের আরও ৯ জন গুরুতর অসুস্থ!

তেলেঙ্গানার জনপ্রিয় বনালু উৎসব পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হইহই করে উদযাপনের পর খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই পরিবারের আরও ৯ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বনস্থলীপুরমে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, রেফ্রিজারেটরে রাখা বাসি আমিষ খাবার খেয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রেফ্রিজারেটরের বাসি খাবারেই বিপত্তি
মৃত ব্যক্তির নাম শ্রীনিবাস যাদব, যিনি ফলকনুমা রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন ডিপোর একজন কন্ডাক্টর ছিলেন। রবিবার, বনালু উৎসব উপলক্ষে তাঁর বাড়িতে মুরগি ও খাসির মাংসের বিভিন্ন পদ রান্না করা হয়েছিল। উৎসব শেষে পরের দিন অর্থাৎ সোমবার, ফ্রিজে রাখা সেই বাসি খাবার বের করে পরিবারের সদস্যরা গরম করে খান। এই খাবার খাওয়ার পরেই শ্রীনিবাস যাদব, তাঁর ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী রাজিতা, তাঁদের ১৭ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে, এবং বৃদ্ধা মাসহ পরিবারের মোট ৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের মধ্যে একজন শিশুও ছিল।
চিকিৎসকরা যা বলছেন
খাবার খাওয়ার পরই সকলের মধ্যে ডায়রিয়া, বমি এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অসুস্থদের দ্রুত বনস্থলীপুরমের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও শ্রীনিবাস যাদবকে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আরও তিনজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক এবং বাকিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত
বনস্থলীপুরম পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে ঠিক কী কারণে এমন পরিণতি হল। সাধারণত, এক দিন ফ্রিজে খাবার রেখে পরের দিন খাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, তাই খাবারে পচন ধরলেও তা কেন খাওয়ার সময় টের পাওয়া গেল না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। মৃত শ্রীনিবাস যাদবের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়াই মৃত্যুর কারণ। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জনসাধারণকে ফ্রিজে রাখা মাংস বা প্রাণিজ খাবার গরম করে খাওয়ার সময় আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।