ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ থেকে আইএসআই ডায়েরি! কলকাতার বুকে জাঁকিয়ে বসা পাক চরের আসল রহস্য ফাঁস!

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক তিন দিন আগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হাবড়া ও কলকাতা থেকে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। খাস কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের অতি সংবেদনশীল ম্যাপ, ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর কাছে পাচার করার গুরুতর অভিযোগে ধৃত এই পাক নাগরিককে ঘিরে এখন দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ভারতে সুনির্দিষ্ট কিছু নাশকতার ছক ও দায়িত্ব নিয়েই প্রবেশ করেছিল সে।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফোর্ট উইলিয়ামের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল এলাকার মানচিত্র এবং ভিডিও পাক চরের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ কমিশনারের স্পষ্ট বক্তব্য, ধৃতকে জেরা করে তার গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধান চালানো হচ্ছে। খাস কলকাতায় কীভাবে ভুয়ো বা জাল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি হচ্ছে, তার শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আসন্ন স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে কলকাতার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেঙ্গল এসটিএফের সঙ্গে যৌথভাবে চলছে தீவிர জিজ্ঞাসাবাদ।
তদন্তে নেমে এসটিএফ জানতে পেরেছে, ধৃত রানার মূল কাজ ছিল ভারতীয় সেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) গতিবিধি সংক্রান্ত যাবতীয় গোপন তথ্য সংগ্রহ করা। সে নিজে ফোর্ট উইলিয়ামে সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছিল। এমনকি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেও শেষ রক্ষা হয়নি; তদন্তকারীদের হাতে তার একটি গোপন নোটবুক চলে আসে। সেই নোটবুকের পাতা উল্টিয়েই আইএসআই-এর আরও ৬ জন বিপদজনক এজেন্টের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। যার মধ্যে নেপালের ৫ জন—কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহেল, জেডি এবং হারুণ সফদার এবং বাংলাদেশের পাভেলের নাম রয়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকের পর পেট্রাপোল সীমান্ত ও বনগাঁ হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। ওপারে যশোরে তার জন্য অপেক্ষা করছিল পাক চর এজেন্ট পাভেল। সেখানে পৌঁছে নতুন ডিভাইস ও পরবর্তী নাশকতার ছক কষার কথা ছিল তার। বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক চক্রের বাকি সহযোগীদের খুঁজে বের করতে জেরা অব্যাহত রেখেছে এসটিএফ।