ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বড় রহস্য ফাঁস! কলকাতার বুকে কীভাবে জাল পরিচয়পত্র বানিয়ে লুকিয়েছিল পাক চর রানা?

কলকাতা তথা রাজ্যজুড়ে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ল এক বিপজ্জনক পাকিস্তানি নাগরিক। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) হাতে গ্রেফতার হয়েছে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব নামের এক কুখ্যাত আইএসআই চর। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানি এই চর ভারতে নিজের পরিচয় গোপন করতে এক ভারতীয় যুবকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরির জন্য সে ইজাজের বাবাকে নিজের বাবা অর্থাৎ জব্বার ওরফে জুবের আলমের নাম ব্যবহার করেছিল। নিজেকে ইজাজের ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তপসিয়া এলাকায় জাল নথিপত্র তৈরি করেছিল সে। এই জালিয়াতির অভিযোগে তপসিয়া থেকে ইতিমধ্যেই আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃত রানার কাছ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু তথ্য উদ্ধার হয়েছে। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম, বারাকপুর সেনা ক্যাম্প এবং ভারতীয় রেলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি, ভিডিও ও নির্দিষ্ট লোকেশন সে বিদেশে থাকা পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করেছিল। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে কোনো বড় ধরনের নাশকতা বা হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রানার ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলা হলেও তদন্তকারীরা তার কাছ থেকে একটি গোপন নোটবুক উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আর সেই নোটবুক থেকেই আইএসআই-এর আরও ৬ জন এজেন্টের নাম প্রকাশে এসেছে।
উদ্ধার হওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, নেপালের পাঁচ নাগরিক—কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার এবং বাংলাদেশের এক চর পাভেলের নাম এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জেরায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। ওপারে যশোরে তার জন্য অপেক্ষা করছিল পাকিস্তানি চর পাভেল। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরই রানাকে একটি নতুন মোবাইল ফোন দেওয়ার চুক্তি ছিল এবং সেখানে বসে পরবর্তী নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির পরিকল্পনা ছিল তার। বর্তমানে ধৃতকে জেরা করে এই আন্তর্জাতিক চক্রের বাকি শেকড়গুলো কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।