দেহ দাহ করে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চক্রান্ত! RG Kar-কাণ্ডে গ্রেপ্তার নির্মল ঘোষ

আরজি করের তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি মৃতদেহ দাহ করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। ওডিশা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি আরজি করের ছাত্রীর স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরেই দায়ের হওয়া নতুন এফআইআর-এর ভিত্তিতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের খড়দহ থানার পুলিশ এই বড় পদক্ষেপ করল।
ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে?
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন ওই চিকিৎসক পড়ুয়া। শুরু থেকেই পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের মদতে অপরাধের বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যার মধ্যে সবথেকে বড় অভিযোগ ছিল—পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে ছাত্রীর শেষকৃত্য ও দেহ দাহ সম্পন্ন করা।
নির্যাতিতার বাবা সম্প্রতি এ নিয়ে নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নতুন এফআইআর-এ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো অত্যন্ত গুরুতর ধারাগুলি যুক্ত করা হয়। ওই অভিযোগপত্রে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ছাড়াও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে।
ওডিশা থেকে গ্রেপ্তার ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ চলছিল নির্মল ঘোষের। তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও অবশেষে ওডিশা থেকে খড়দহ থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। যদিও এই গ্রেপ্তারির বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৯ অগস্ট পানিহাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি করের ছাত্রীর দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরেই তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন। প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারের ফলে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য রহস্যও দ্রুত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।