হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কারসাজি শেষ! ভুল চিকিৎসার বিরুদ্ধে এবার কোথায় জানাবেন নালিশ?

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবার এক যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপ করল ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন (WBCERC)। নির্দেশিকা জারি করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং সমস্ত প্যাথোলজিক্যাল সেন্টারের বিরুদ্ধে কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, সেই তথ্য এবার বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ্যে বড় আকারের ব্যানার বা হোর্ডিং টাঙিয়ে প্রদর্শন করতে হবে। সমস্ত ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্টকে আগামী সাত দিনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সহজে নজরে পড়ে এমন স্থানে এই নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকায় রঙের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে। হোর্ডিং বা ব্যানারের মূল ব্যাকগ্রাউন্ড বা পটভূমি অবশ্যই কমলা রঙের হতে হবে এবং তার ওপরে সমস্ত লেখা অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাদা রঙে ফুটিয়ে তুলতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট রঙের বিন্যাস ব্যবহার করলেই চলবে না, অভিযোগ জানানোর যাবতীয় প্রক্রিয়া বাংলা এবং ইংরেজি—এই দুই ভাষাতেই হোর্ডিংয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে হাসপাতাল চত্বরে আসা সাধারণ রোগী এবং তাঁদের বিচলিত পরিজনেরা সহজেই তা পড়তে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অসন্তোষ বা অভিযোগ থাকলে তা কোথায় এবং কোন মাধ্যমে জানানো যাবে, তা নিখুঁতভাবে সবার চোখের সামনে দৃশ্যমান রাখাই এই নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য।

কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য মোট চারটি সুনির্দিষ্ট মাধ্যম খোলা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় হেল্পলাইন নম্বর ১৮৬০-৩৪৫-৩৫১২, অফিসিয়াল ই-মেল ঠিকানা, কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সরাসরি ডাকযোগে বা চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা। তবে শুধু নির্দেশিকা জারি করেই ক্ষান্ত থাকছে না কমিশন; এই নির্দেশ ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তার কড়া নজরদারিও রাখা হচ্ছে। ব্যানার বা হোর্ডিং লাগানোর পর অবিলম্বে তার প্রামাণ্য ছবি তুলে কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট মাপে ও রঙে ব্যানার লাগানো হয়েছে কি না, তার অকাট্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পেশ করতে হবে। রাজ্যের জেলা স্তরে এই নির্দেশ যাতে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ (CMOH)-দের ওপর।