জিপে-ফোনপে-র দিন কি শেষ? ভারতে পা রাখতে চলেছে অ্যাপেল পে, জানুন সব চমক!

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্টের বিশাল বাজারে এতদিন একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল জিপি, ফোনপে এবং পেটিএম-এর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি। তবে এবার সেই অঙ্কে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে গ্লোবাল টেক জায়ান্ট অ্যাপেল। বিশ্বের ৮৯টি দেশে ইতিমধ্যে সফলভাবে পথ চলার পর এবার ভারতীয় বাজারে নিজেদের ফিনটেক পরিষেবা ‘অ্যাপেল পে’ (Apple Pay) লঞ্চ করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এই মার্কিন সংস্থা। এই মুহূর্তে ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট রেগুলেটর এবং ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে অ্যাপেল কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সবকিছু ঠিকঠাক চললে ২০২৬ সালের শেষের দিকেই ভারতের বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে এই বহুকাঙ্ক্ষিত পরিষেবাটি।
ভারতের বাজার অন্যান্য দেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এখানে মানুষ প্রধানত ইউপিআই (UPI) এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেন করতেই সবচেয়ে বেশি অভ্যস্ত। ফলে অ্যাপেল পে এসেই সরাসরি গুগল পে বা ফোনপে-কে জোর টক্কর দেবে না; বরং এটি মূলত দেশের বিশাল আইফোন এবং অ্যাপেল ডিভাইস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি প্রিমিয়াম ও কার্ড-বেসড কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্টের বিকল্প হিসেবে হাজির হবে। কিভাবে কাজ করবে এই নতুন পরিষেবাটি? প্রথম ধাপে ব্যবহারকারীদের তাঁদের ভিসা বা মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডগুলি অ্যাপেল ওয়ালেটে (Apple Wallet) সেভ বা লিঙ্ক করে রাখতে হবে। বর্তমান সময়ে ভারতীয় কার্ডগুলি সরাসরি অ্যাপেল ওয়ালেটে যুক্ত করা যায় না, তবে লঞ্চের পর সেই বাধা দূর হবে।
লেনদেনের পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও সুরক্ষিত। দোকান, রেস্তোরাঁ কিংবা পেট্রোল পাম্পে কেনাকাটার পর পিওএস (PoS) মেশিনের সামনে নিজেদের আইফোন বা অ্যাপেল ওয়াচ (Apple Watch) কেবল একবার ট্যাপ করলেই পেমেন্ট সফল হয়ে যাবে। এর জন্য পকেট থেকে ফিজিক্যাল কার্ড বের করার কোনো প্রয়োজনই পড়বে না। শুধু তাই নয়, অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপেও অ্যাপেল পে সাপোর্ট করলে ফেস আইডি (Face ID) অথবা টাচ আইডি (Touch আইডি) ব্যবহার করে পলকে পেমেন্ট করা সম্ভব হবে। সুরক্ষার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত উন্নত, কারণ পেমেন্টের সময় দোকানদারের কাছে গ্রাহকের আসল কার্ড নম্বর প্রকাশ পায় না।
তবে গুগল পে বা ফোনপে-র সঙ্গে অ্যাপেল পে-র কার্যপদ্ধতিতে একটি মৌলিক তফাত রয়েছে। জিপি বা ফোনপে যেখানে সরাসরি ইউপিআই-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক টু ব্যাঙ্ক লেনদেন পরিচালনা করে, সেখানে অ্যাপেল পে সম্পূর্ণরূপে কার্ড-ভিত্তিক এনএফসি (NFC) পেমেন্টের ওপর নির্ভর করে কাজ করবে। অর্থাৎ, প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যাপেল পে-তে কোনো ইউপিআই ইন্টিগ্রেশন থাকছে না; ব্যবহারকারীদের لازمیভাবে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড লিঙ্ক করতেই হবে। যদিও পরবর্তীতে ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ইউপিআই যুক্ত হতে পারে। এই পরিষেবাটি ব্যবহারের জন্য দুটি শর্ত আবশ্যক—গ্রাহকের কাছে একটি এনএফসি সমর্থিত আইফোন বা অ্যাপেল ডিভাইস থাকতে হবে এবং একটি ভারতীয় ব্যাঙ্কের কার্ড থাকতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।