ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোনার দাম; ১,৪১,৩০০ টাকার স্তর ভাঙলে কি আরও পতন?

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে চলতি সপ্তাহে সোনার বাজারে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের নজর এখন সোনার দরের ওঠানামার দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত সোনার বাজারে ‘বিয়ারিশ’ বা নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
কেন চাপের মুখে সোনার বাজার?
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম-এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও ইরানের পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে অশনিসংকেত তৈরি করেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের ফলন শক্তিশালী হওয়ায় সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কিছুটা কমেছে।
ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তের দিকে নজর
বাজার এখন তাকিয়ে রয়েছে মার্কিন ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই সপ্তাহে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশিত হতে চলেছে, যা সোনার দামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে:
মার্কিন Consumer Price Index (CPI) এবং Producer Price Index (PPI)।
ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ-এর কংগ্রেসে বক্তব্য।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির তথ্য যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসে, তবে সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সোনার দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। উল্টোদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বা ফেড নমনীয় অবস্থান নিলে বাজার কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
চার্ট কী বলছে?
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সোনা বর্তমানে ২০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের নিচে লেনদেন করছে। দৈনিক চার্টে ধারাবাহিকভাবে ‘লোয়ার হাই’ এবং ‘লোয়ার লো’ তৈরি হওয়া বাজারের দুর্বল অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল:
সাপোর্ট: ১,৪১,৩০০ টাকা, ১,৩৯,২০০ টাকা এবং ১,৩৭,০০০ টাকা।
রেজিস্ট্যান্স: ১,৪৫,৮০০ টাকা, ১,৪৮,৫০০ টাকা এবং ১,৫২,৪৫০ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা যদি ১,৪৫,৮০০ টাকার উপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে, তবেই বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ফিরবে। অন্যদিকে, ১,৪১,৩০০ টাকার নিচে দাম নেমে গেলে সংশোধন আরও গভীর হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ:
বর্তমানে সোনার বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোনে রয়েছে। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
১. দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী: ধাপে ধাপে কেনার সুযোগ খুঁজলেও বাজারের দিক স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. স্বল্পমেয়াদি ট্রেডার: ১,৪১,৩০০ টাকার স্তরের ওপর কড়া নজর রাখুন। এই স্তর ভাঙলে পতনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৩. সতর্কতা: আপাতত বাজারে খুব সাবধানে পা ফেলার সময়। এই সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে বিশেষ নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।