ফলের ‘পুষ্পা’ নেতার অফিসে বুলডোজার চলল! কে চালাল জানেন? জানলে চমকে উঠবেন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকার রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের দলীয় অফিসে আচমকাই আছড়ে পড়ল একটি বিশালাকার হাইড্রোলিক মেশিন। প্রথমে সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভেবেছিলেন যে রাজ্যজুড়ে চলা বুলডোজার অভিযانের অংশ হিসেবেই বুঝি ওই বেআইনি পার্টি অফিস ভাঙা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে কৌতূহলী জনতার ভিড় জমতে শুরু করে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় বজবজ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার আইসি এবং বজবজ তদন্ত কেন্দ্রের ওসি নিজে উপস্থিত হন। প্রাথমিক বিভ্রান্তি কেটে যাওয়ার পর আসল সত্যটি প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বুলডোজার অভিযান নয়, বরং একটি আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির ফলেই এই বিপত্তি ঘটে।
গতকাল গভীর রাতে বজবজের দিক থেকে একটি সুবিশাল হাইড্রোলিক মেশিন আসছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎই গাড়িটির ব্রেক ডাউন হয় এবং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে নিয়ন্ত্রণহীন দানবাকৃতি গাড়িটি সোজාවে গিয়ে ধাক্কা মারে বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের ওপর অবস্থিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সেই পরিচিত দলীয় অফিসে। আনুমানিক রাত দশটা নাগাদ এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনাটি ঘটে।
হঠাৎ করে এত বড় একটি ভারী মেশিন সোজা একটি বহুতল ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ত্রাসের সৃষ্টি হয়। যে বিল্ডিংয়ের নিচেই ওই পার্টি অফিসটি অবস্থিত, ঠিক তার ওপরের তলাগুলিতে প্রায় দশটি পরিবার বসবাস করেন। হঠাৎ মাঝরাতে বিকট শব্দ এবং কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আবাসিকরা। জীবনের ভয়ে তারা তড়িঘড়ি ঘর ছেড়ে ভয়ে নিচে রাস্তায় নেমে আসেন।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। দ্রুত স্থানীয় বজবজ থানার পুলিশের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আরও একটি সুবিশাল ক্রেন আনা হয়। বজবজ থানার আইসি-র সরাসরি উপস্থিতিতে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত হাইড্রোলিক মেশিনটিকে ওই অফিস ঘর থেকে সফলভাবে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়। বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই রোমহর্ষক দুর্ঘটনা ঘিরে এখনও থমথমে ও আতঙ্কিত এলাকার পরিবেশ।