নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য! বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের ক্ষমার পরেও দলের কড়া বার্তার গুঞ্জন

নেতাজি সুভাষচন্দ্র মৃত্যুকে ঘিরে বা তাঁর অবদান নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত বেশ কিছুদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সব মহল থেকেই এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ঠিক এইরকম এক উত্তপ্ত ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার খোদ নেতাজি প্রসঙ্গ নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়ার পরেও নিজের পূর্বের বিতর্কিত মন্তব্যে সম্পূর্ণ অনড় থেকেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায়, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘অনন্ত মহারাজ’ নামে সমধিক পরিচিত। ইতিমধ্যিেই তাঁর প্রাপ্ত ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান রাষ্ট্র বা সরকার পতনের পর কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এই বিতর্কের জেরে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু তারপরেও রাজনৈতিক মহলে জোরদার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী এমন মন্তব্য করার পর এবার কি তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো কঠোর প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব?
অনন্ত মহারাজ বারবার সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো রকম মিথ্যা বা মনগড়া কথা বলেননি। তাঁর জোরালো দাবি, বিভিন্ন ঐতিহাসিক বই তথা দাপ্তরিক রেকর্ডে যা লিখিত রয়েছে, তিনি শুধুমাত্র সেটাই সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। এমনকি তিনি আগের এক বক্তব্যে এও দাবি করেছিলেন যে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাকি নেতাজি সুভাষচন্দ্রের কোনো জোরালো ভূমিকা ছিল না! এরপর গত বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও নিজের সেই একই পুরনো অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানান তিনি। সাংসদ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, সরকারি বা ঐতিহাসিক রেকর্ডে যদি নেতাজির অবদানের কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকত, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সেই কথা বলতেন, কিন্তু সেরকম কিছু নাকি কোথাও লেখা নেই। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শুক্রবার সকালেই নিজের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
এই গোটা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন, “প্রত্যেকটি জাতীয়তাবাদী মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বিরাজ করছেন নেতাজি। নেতাজি হলেন সমস্ত নেতাদের নেতা। কংগ্রেস দল থেকে যদি তাঁকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত করা না হতো, তবে তিনি হয়তো সেদিন রুখে দাঁড়িয়ে বলতে পারতেন যে ভারত অখণ্ড থাকবে এবং দেশের কোনো ভৌগোলিক বিভাজন হতে দেওয়া হবে না। এমনকি ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতকে খণ্ডিত করার তীব্র বিরোধী ছিলেন নেতাজি। তিনি যদি সেদিন প্রধান দায়িত্বে থাকতেন, তবে এভাবে আকস্মিক ও খণ্ডিত উপায়ে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর হত না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবার সঙ্গে সবার মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু নেতাজি তাঁর নিজের কালজয়ী ব্যক্তিত্বে এবং মহিমায় চিরকাল অটুট ও অনন্য হয়ে রয়ে গিয়েছেন।”
এর পরেই শমীকবাবু অত্যন্ত কড়া সুরে এক বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানান যে, “নেতাজিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে যদি কোনো কারণে সামান্যতম আঘাত লেগে থাকে, তবে দল এই বিষয়ে গভীরভাবে ভাবনাচিন্তা করবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অনন্ত মহারাজের এহেন মন্তব্য এবং পরবর্তীতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই স্পষ্ট অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে আগামী দিনে নতুন কোনো বড় রাজনৈতিক মোড় আনতে চলেছে।