“প্রশ্নফাঁস করলে ১০ কোটি টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের জেল!”-কঠোর আইন আনতে চলেছে মোদী সরকার

দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও যুব সম্প্রদায়ের তীব্র বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যেই এবার এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমান Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024 আইনে বড়সড় সংশোধন এনে অপরাধীদের শাস্তির মাত্রা আরও অনেক বেশি কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে কারাবাসের মেয়াদ যেমন বাড়বে, তেমনই দোষীদের ঘাড়ে চাপবে আকাশছোঁয়া অঙ্কের জরিমানা।
প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা ও মধ্যরাতের ঘোষণা
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি লাইভ ভিডিও বার্তায় দেশের ছাত্র-যুবসমাজকে ‘ফ্রেন্ডস’ বা বন্ধু বলে সম্বোধন করে সরাসরি বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করছে এবং সরকার তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার পরই এবার বর্তমান আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তা কার্যকরের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র।
নতুন আইন সংশোধনীতে কী কী শাস্তির প্রস্তাব রয়েছে?
সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন এই সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের জন্য অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে:
কারাবাসের মেয়াদ: দোষীদের ক্ষেত্রে জেলের মেয়াদ ৩-৫ বছর থেকে বাড়িয়ে सीधा ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত করা হতে পারে।
বিশাল অঙ্কের জরিমানা: অপরাধীদের ওপর জরিমানার অঙ্ক একলাফে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত: অপরাধের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত (Fast-Track Court) গঠনের পরিকল্পনাও করেছে সরকার।
বর্তমান আইনে কী শাস্তির বিধান রয়েছে?
উল্লেখ্য, বর্তমান আইনে কোনো ব্যক্তি প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে দোষী সাব্যস্ত হলে ৩ থেকে ৫ বছরের কারাবাস এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা পরিচালনাকারী বা পরিষেবা প্রদানকারী কোনো সংস্থা অপরাধের তথ্য গোপন করলে তাদের বিরুদ্ধেও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার নিয়ম চালু আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সেই শাস্তিকেই আরও বহুগুণ কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এই হঠাৎ কড়া পদক্ষেপ?
NEET-সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে বিগত কিছু দিন ধরে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার বিক্ষোভ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা রাজনৈতিক চাপের মুখেই কেন্দ্র এই আইনি সংশোধনের পথে হাঁটল। আন্দোলনকারী ও ছাত্রছাত্রীদের মূল অভিযোগ ছিল, বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁস চক্রগুলির বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরকারের শীর্ষ মহলের বিশ্বাস, আইনে এই নতুন ও কঠোর সংশোধনীগুলি দ্রুত কার্যকর হলে প্রশ্নফাঁসের মতো সংগঠিত ও অপরাধমূলক চক্রগুলির কোমর ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির হারানো ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আবারও মজবুত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।