জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট পেতে আর হয়রানি নয়! পশ্চিমবঙ্গ সরকারে বিরাট সংস্কার, বড় দায়িত্ব পেলেন সরাসরি জেলাশাসকরা

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক আমূল ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হেঁটে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। এতদিন ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান বা এক্সিকিউটিভ অফিসারদের হাতে জন্ম ও মৃত্যুর জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক হিসেবে যে সমস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গোটা জনপ্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও অনেক বেশি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক বেশি সুগঠিত, নির্ভুল এবং দ্রুততর হবে, অন্যদিকে তেমনই স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বা যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিন্দুমাত্র সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
নতুন এবং সংশোধিত এই প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রতিটি রাজস্ব জেলার ক্ষেত্রে সরাসরি জেলাশাসক ও কালেক্টরকে ওই নির্দিষ্ট জেলার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে জেলাশাসকের কঠোর নজরদারিতে তদারকি করা হবে। পাশাপাশি, ব্লক মেডিকেল অফিসার অফ হেলথ (বিএমওএইচ), গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের প্রধানরা তাঁদের নিজ নিজ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধক হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করবেন। এর ফলে কোনো নার্সিংহোম বা সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নতুন শিশু কিংবা কোনো মৃত্যুর ঘটনা আর আটকে থাকবে না, বরং তা তাৎক্ষণিকভাবে নিখুঁতভাবে নিবন্ধিত হবে। জনপ্রতিনিধিদের বদলে সম্পূর্ণ সরকারি ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।
রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও পৌরসভার দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য এখন থেকে নির্দিষ্ট এবং ডেডিকেটেড সরকারি অফিসার নিয়োগ করা হবে, যাঁরা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের সমস্ত কাজ অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখভাল করবেন। অতীতে পঞ্চায়েত প্রধান বা পৌরপ্রধানদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, তীব্র বিলম্ব এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ উঠত। বর্তমান এই নতুন এবং পেশাদার ব্যবস্থায় সেই সমস্ত নেতিবাচক সম্ভাবনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের সর্বপ্রধান অগ্রাধিকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে চাকরি, ভোটার কার্ড কিংবা বিভিন্ন জরুরি ক্ষেত্রে জন্ম ও মৃত্যুর সার্টিফিকেট একটি অত্যন্ত মৌলিক ও অপরিহার্য প্রয়োজন। তাই এই প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত, ঝামেলাহীন এবং শতভাগ নির্ভরযোগ্য করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অত্যন্ত সময়োপযোগী সংস্কার আনা হয়েছে।