পদত্যাগ ছাড়া একচুলও নড়বে না সিজেপি! কেন্দ্র-বিক্ষোভকারীদের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে কোন বড় বার্তা?

NEET পেপার লিক সংক্রান্ত মামলা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল জাতীয় রাজধানী। এর মাঝেই আজ শুক্রবার দিল্লির ভিঠল হাউসে কেন্দ্র সরকার এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্দোলন প্রশমনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে কেন্দ্র ও বিক্ষোভকারী পক্ষের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় দফার মুখোমুখি আলোচনা। তবে বৈঠকের শুরুতেই CJP-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প শর্ত তাদের মোটেও মঞ্জুর নয় এবং এই জোরালো আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না।
সরকারের পক্ষে এই বৈঠকে আলোচনার টেবিলে অংশ নেন CJP-র প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার নেতৃত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি প্রথমে কনস্টিটিউশন ক্লাবে হওয়ার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কঠোর নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে ভিঠল হাউসে স্থানান্তরিত করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা ভিঠল হাউসের ৫০৪ নম্বর কক্ষে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায় বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেশের সাধারণ যুবসমাজ এবং ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই। এটি শুধু সোনম ওয়াংচুক কিংবা দীপকের ব্যক্তিগত কোনো আন্দোলন নয়, বরং গোটা দেশের যুবশক্তির কণ্ঠস্বর, এখানে কোনো রাজনৈতিক দল বা বিরোধী শিবিরের একাধিপত্য নেই। সরকার যদি সত্যিই এই জটিল সংকটের কোনো স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চায়, তবে তার একমাত্র পথ হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ।”
বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে দীপকে মন্তব্য করেন, “আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস যে সরকার অত্যন্ত সুচতুরভাবে সোনমজিকে জোরপূর্বক আটক করে রেখেছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা অনায়াসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারলেও দেশের কোনো বিরোধী সাংসদ বা এমনকি আমরা কেউই তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাইনি। তবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে সোনম স্যার অবশেষে তাঁর দীর্ঘ অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।”
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং CJP-কে সরকারের সঙ্গে আরও এক দফা আলোচনায় বসার জন্য প্রকাশ্যেই আহ্বান জানান। তিনি তাঁর জোরালো আবেদনে স্পষ্ট করে দেন যে, পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা এবং সংলাপের মাধ্যমেই কেবল যেকোনো জটিল সমস্যার সঠিক সমাধান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা সম্ভব। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিং জানান যে, বিগত ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সিজেপি প্রতিনিধি দলকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ‘কমপক্ষে চারবার’ আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এই আন্দোলনে যুক্ত সমস্ত পড়ুয়া ও তরুণ বন্ধুদের অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে অনুরোধ করছি যে তারা যেন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন, আমাদের আলোচনার দরজা সব সময়ই খোলা রয়েছে।” সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে একটি অত্যন্ত নমনীয় ও ‘বিনম্র আবেদন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।