কলকাতা পুরসভায় একে একে ধরাশায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা। তোলাবাজি, প্রতারণা ও ভয় দেখানোর গুরুতর অভিযোগে বুধবার বড়বাজার থানা গ্রেপ্তার করল ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মাকে। এই গ্রেপ্তারির ঘটনা পুরসভার অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও চরমে নিয়ে গেল।
কী অভিযোগ মহেশ কুমার শর্মার বিরুদ্ধে? পোস্তা এলাকার কটন স্ট্রিটের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সি মহেশ কুমার শর্মার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং জোর করে টাকা তোলার মতো গুরুতর মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ না করলেও, এই গ্রেপ্তারিতে পুরসভার অন্দরে তোলপাড় পড়ে গেছে।
অস্থিরতার মুখে পুর প্রশাসন গত কয়েকদিনে কলকাতা পুরসভায় কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তারের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এর আগে তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিং এবং ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস ঠাকুর।
তবে কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবারই মেয়র পারিষদ তারক সিং পদত্যাগ করেন। আর বুধবার বড় খবর হিসেবে সামনে আসে, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেয়র পারিষদ ও মেয়রের এমন পদত্যাগ কলকাতা পুরসভার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের একের পর এক গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের পদত্যাগের ঘটনা কলকাতা পুরসভার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পুরসভার অন্দরে এখন এক গভীর সংকটকাল চলছে বলে ধারণা করছেন ওয়াকিবহাল মহল। মেয়র ও একাধিক কাউন্সিলরের অপসারণের পর এই জটিল পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা মহানগরী।





