তল্লাশিতে বেরিয়ে এল কোটি টাকার কারবার! প্রাক্তন বিধায়ক শওকতের ক্যাফে ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

ভোটের আগে ভাঙড়ের বামুনিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল এনআইএ (NIA)। বৃহস্পতিবার ভোররাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার জীবনতলার বাড়িতে হানা দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। বিস্ফোরণ পরবর্তী এই তদন্তে শওকত মোল্লার নাম উঠে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও এদিন তল্লাশিকালে বাড়িতে ছিলেন না প্রাক্তন বিধায়ক।

অভিযান চলাকালীন শওকতের স্ত্রী ও মেয়েকে প্রথমে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও পরে তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের একটি দল শওকতের মেয়েকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতেও তল্লাশি চালায়। এরপরই শওকতের ছেলে ইমরান মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে এনআইএ-র আধিকারিকরা পৌঁছান ক্যানিং-এর ‘ক্যাফে অরণ্যের কূলে’-তে। স্থানীয়দের দাবি, এই আলিশান ক্যাফেটি ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন। ভেরির মাঝে গড়ে ওঠা এই ক্যাফেটি নিয়ে স্থানীয়দের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। অভিযোগ, একদা নদীপথ ভরাট করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই নির্মাণকাজ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার কয়েকদিন পরেই এই ক্যাফেতে শওকত মোল্লাকে দেখা গিয়েছিল। এদিন ক্যাফেতে তল্লাশি চালিয়ে শওকতের ছেলেকে আটক করে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। পরে স্থানীয় পঞ্চায়েত সহ-সভাপতি আবু জাফফর মীরের বাড়িতেও ইমরানকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৮ মার্চ গভীর রাতে দক্ষিণ বামুনিয়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেই ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, দেগঙ্গা থানার তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর রহমান এই বিস্ফোরণে নিহত হন। মসিউরের ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়েছিল হাড়োয়া এলাকার একটি মেছো ভেরির পাশ থেকে। ঘটনাটি তৎকালীন সময়ে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এনআইএ-র দাবি, বিস্ফোরণের সময় মসিউরের সঙ্গে সুজয় মণ্ডল এবং কাবির মোল্লা নামে আরও দু’জন উপস্থিত ছিল। পরে আহত অবস্থায় সুজয়কে গ্রেফতার করা হলেও, কাবির এখনও পলাতক।

মঙ্গলবার থেকেই এনআইএ-র তিনটি পৃথক দল দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। সাথে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় থানার পুলিশ। প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে এই তল্লাশি এবং তাঁর ছেলের ক্যাফে থেকে এই ‘বেআইনি’ সম্পত্তির হদিস মেলায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মাছ চুরির মতো সামান্য ঘটনা থেকে উঠে এসে কীভাবে কয়েক বছরের মধ্যে শওকত মোল্লা ও তাঁর পরিবার এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হলেন, তা তদন্তের দাবি রাখে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং বিস্ফোরণের মূল চক্রীদের ধরতে এনআইএ আধিকারিকরা এখন সমস্ত নথি খতিয়ে দেখছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy