পুজোর অনুদান থেকে ভোটার তালিকা— বীরভূমে মুখোমুখি কেষ্ট ও কাজল! তুঙ্গে রাজনৈতিক মহড়া

বীরভূমের রাজনীতিতে ‘দাদা’ ফিরলেও অস্বস্তি কাটছে না তৃণমূলের। একদিকে যখন খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল হুঙ্কার দিচ্ছেন, ঠিক তখনই জেলাজুড়ে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নানুরের দাসকলগ্রাম কড়েয়া এলাকা।
দুর্গাপুজোর টাকা নিয়ে ধুন্ধুমার: ঘটনার সূত্রপাত নানুরের কড়েয়া ২ নম্বর অঞ্চলে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদানের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। দুই পক্ষের লাঠি-সোটা ও হাতাহাতিতে রক্তাক্ত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আহতদের নানুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
অনুব্রত অনুগামীদের দাবি, স্রেফ ‘কেষ্ট ঘনিষ্ঠ’ হওয়ার কারণেই কাজল শেখের লোকরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যদিও কাজল গোষ্ঠী একে স্রেফ পুজোর হিসাব নিয়ে গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিবাদ বলে দাবি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে কীর্ণাহার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত: গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যখন চরমে, তখন অন্য মেজাজে ধরা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী তিনি। জেলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
অনুব্রত মণ্ডলের দাবি:
বীরভূম জেলা থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
এর মধ্যে অধিকাংশই মৃত ভোটার অথবা আগের তালিকা থেকেই নানা কারণে বাদ ছিল।
আসন্ন নির্বাচনে এই তালিকা সংশোধনের কোনও নেতিবাচক প্রভাব বীরভূমে পড়বে না।
তৃণমূলের অন্দরের লড়াই বনাম প্রশাসনিক কড়াকড়ি: একদিকে বীরভূমে ১ লক্ষ ৭০ হাজার নাম বাদ যাওয়া এবং অন্যদিকে অনুব্রত-কাজল দ্বন্দ্বে ১০ জনের জখম হওয়া— সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে বীরভূমের ‘লাল মাটি’ যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।