পিছড়ে বর্গের নেতা নীতীশ, কিন্তু জেডিইউ চালাচ্ছেন ভূমিহার, ব্রাহ্মণ ও রাজপুত! রাঘোপুরে মনোনয়ন জমা দিয়েই বিস্ফোরক তেজস্বী

বিহারে রাজনীতি থেকে সমাজ, সর্বত্রই জাত একটি অন্যতম বিচার্য বিষয়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জাতের ইস্যুতেই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং তাঁর দল জনতা দল ইউনাইটেডকে (JDU) তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)। আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদের পুত্র তেজস্বী বুধবার সাফ জানিয়ে দেন, নীতীশ কুমার পিছড়ে বর্গের নেতা হলেও, তাঁর দল চলছে উচ্চবর্ণের অঙ্গুলিহেলনে।
বুধবার তেজস্বী পাটনার অদূরে রাঘোপুরে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এই আক্রমণ শানান। এই আসনটি একসময় তাঁর মা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর কেন্দ্র ছিল।
নীতীশ-লালু পরিবারের ‘যাদব’ পরিচয় নিয়ে সংঘাত:
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার লালু প্রসাদের পরিবারকে আক্রমণ করে বলেন, লালু প্রসাদ আদৌ যাদবদের নেতা নন। তাঁর সময়ে যাদবদের মোটেই উন্নতি হয়নি। মনে করা হচ্ছে, রাজ্যের জাত শুমারির রিপোর্টকে ইঙ্গিত করেই নীতীশ এই মন্তব্য করেছেন। রাজ্য সরকারের তৈরি সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিহারে অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির মানুষ প্রায় ৬৫ শতাংশ, এবং তাদের সিংহভাগ হল যাদব সম্প্রদায়ভুক্ত।
তেজস্বীর পাল্টা আক্রমণ:
তেজস্বী যাদব বুধবার এই আক্রমণের পাল্টা দিয়েছেন। নীতীশ কুমার বিহারে কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা অতি পিছড়ে বর্গ (EBC) ভুক্ত। লালু প্রসাদ যেমন যাদবদের মুখ, তেমনি কুর্মিদের মুখ হলেন নীতীশ।
তেজস্বীর অভিযোগ, জেডিইউ-কে এখন চালাচ্ছেন তিন উচ্চবর্ণের নেতা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিং (ভূমিহার), রাজ্যের মন্ত্রী বিজয় চৌধুরী (রাজপুত) এবং রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় ঝা (ব্রাহ্মণ)।
তেজস্বীর অভিযোগ, বিজেপির চাপে নীতীশ কুমার এই তিন উচ্চ বর্ণের নেতাকে জেডিইউ-র গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন এবং এখন বিজেপির নির্দেশেই এই তিন নেতা দল পরিচালনা করেন। তেজস্বীর কথায়, নীতীশের দল এখন আর গরিবের পার্টি নয়। এই মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনে জাতপাতের সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।