পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত খগেন মুর্মু, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ‘আমরাই নেব’, হুঁশিয়ারি সুকান্ত মজুমদারের

মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করল নাগরাকাটা থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই চারজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন আক্রামূল হক, শাহানূর আলম, তোফায়েল হোসেন ও গোবিন্দ শর্মা। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।

অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ৬ অক্টোবর নাগরাকাটার খয়েরবাড়িতে বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে এবং ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরা কোনোক্রমে তাঁদের উদ্ধার করলেও, পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁকে এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত সাংসদ খগেন মুর্মু এখনও শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজেপির অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পরেই বিজেপির নাগরাকাটার ১ নম্বর মণ্ডলের পক্ষ থেকে ভিডিও ফুটেজ দেখে মাসুম আখতার, মহম্মদ মিলান, সাইবুল হক, মহম্মদ সানু, পিঙ্কি বেগম, রাহুল আনসারি, আইনুল আনসারি ও রমজান আলি-সহ মোট আটজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

যদিও পুলিশ গ্রেফতার করেছে আক্রামূল হক, শাহানূর আলম, তোফায়েল হোসেন ও গোবিন্দ শর্মাকে। এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সমীর আহমেদ বলেন, “নাগরাকাটার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”

তবে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা অভিযোগ করেছেন, যাদের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তারা এখনও গ্রেফতার হয়নি।

এদিকে বুধবারই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে তাঁরাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীরাও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হাসপাতালে গিয়ে আহত খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন।