পরীক্ষার বদলে উত্তরপত্র বিতরণ! রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়সড় গাফিলতি, ক্ষোভে ফুঁসছে পড়ুয়ারা

রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন উঠল। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এমএসসি চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্রের বদলে উত্তরপত্র ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, এই ভুল প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিষয়টি গোপন রাখার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের ‘বোনাস নম্বর’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

কী ঘটেছিল সেইদিন? পরীক্ষাকেন্দ্রে ৬০ জন পড়ুয়ার হাতে প্রশ্নপত্রের বদলে উত্তরপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে বুঝে উঠতে না পারলেও, দ্রুত তা নজরে আসে পড়ুয়াদের। তারা প্রতিবাদ জানালে শিক্ষকরা ভুল স্বীকার করার বদলে বিষয়টি জনসমক্ষে না আনার জন্য তাদের চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ, এই ভুল ঢাকতে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

পুরানো ভুলের পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই গাফিলতি এবারই প্রথম নয়। গত ১৬ই এপ্রিল এমএ সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার সময়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন প্রায় ৩০০ জন পড়ুয়া পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে উত্তরপত্র হাতে পেয়ে স্তব্ধ হয়ে যান। অতীতের সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিয়েই কর্তৃপক্ষ একই ভুল করায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

ছাত্রনেতাদের হুঁশিয়ারি এই ঘটনার জেরে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছেন ছাত্রনেতা লক্ষ্যরাজ লুহারিয়া। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পরীক্ষার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে বারবার এমন গাফিলতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও মর্যাদাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।” তিনি অবিলম্বে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়, সেখানে এহেন কারিগরি ও প্রশাসনিক ত্রুটি কীভাবে দিনের পর দিন ঘটে চলেছে? ঘটনার তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি।