পথকুকুর বিতর্কে নয়া মোড়! যত্রতত্র খাওয়ানো নিষিদ্ধ, হিংস্রদের শেল্টারে রাখার নির্দেশ আদালতের

পথকুকুরদের (Stray Dogs) উপস্থিতি নিয়ে চলা বিতর্কে আজ, শুক্রবার, বড় নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, খেলার জায়গা এবং রেলওয়ে স্টেশন সহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকাগুলি থেকে পথকুকুরদের সরাতে হবে এবং তাদের ডগ শেল্টারে স্থানান্তরিত করতে হবে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়। আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে এই অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আদালত কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে যেখান থেকে কুকুরদের সরানো হবে, সেখানে যেন কোনোভাবেই তাদের পুনরায় ছেড়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
গরু সরানোর নির্দেশের প্রসঙ্গ: এদিন আদালত সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্টের হাইওয়ে থেকে গরু সরানোর নির্দেশ এবং জাতীয় সড়ক থেকে ঘুরে বেড়ানো গরুদের নির্দিষ্ট শেল্টারে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়টি টেনে আনে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়ক থেকে ঘুরে বেড়ানো গরুদের সরিয়ে নির্দিষ্ট শেল্টারে পাঠাতে হবে। এছাড়াও, সমস্ত জাতীয় সড়কে হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা এবং হাইওয়ে পেট্রোলিং টিম তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের নিশ্চিত করতে হবে।
পূর্ববর্তী নির্দেশিকা ও নতুন সংযোজন: গত জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআর এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে ডগ শেল্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল। তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে আদালত সেই রায় সংশোধন করে। সংশোধিত রায় অনুযায়ী, টিকাকরণ ও নির্বীজকরণের (Sterilization) পর কুকুরদের তাদের পরিচিত স্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে, যে কুকুরগুলি র্যাবিসে আক্রান্ত বা হিংস্র, তাদের আর ছাড়া হবে না—তাদের শেল্টারেই স্থায়ীভাবে রাখা হবে।
শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পথকুকুরদের যত্রতত্র খাওয়ানো যাবে না। পুরসভাকে নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করে দিতে বলা হয়েছে। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ কতখানি মানা হলো, তা নিয়ে আগামী ১৩ জানুয়ারির শুনানির আগে অ্য়ামিকাস ক্যুরির মাধ্যমে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।