নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস! মোদীর দীর্ঘতম শাসনকালকে কুর্নিশ চন্দ্রবাবুর

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে একটানা দীর্ঘতম মেয়াদে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একটানা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে তিনি এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ভূয়সী প্রশংসা করলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম পার্টির প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের মতামত প্রতিবেদনে চন্দ্রবাবু নাইডু লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই অসামান্য সাফল্য দেশের কোটি কোটি মানুষের ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘দেশ আগে’ নীতির প্রতি অটুট আস্থাকেই প্রতিফলিত করে। এনডিএ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক হিসেবে নাইডু প্রধানমন্ত্রীকে ‘সঠিক সময়ের সঠিক নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভারতের মানুষের আস্থা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। নাইডুর কথায়, “ইতিহাস এই সময়টিকে কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বা উন্নয়নের জন্য মনে রাখবে না, বরং ভারত নিজের ওপর যে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, তার জন্যই মনে রাখবে।”

চন্দ্রবাবু নাইডু দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বহু প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদী অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি আধুনিক সুশাসন এবং সামাজিক আত্মবিশ্বাসকে একসূত্রে গেঁথেছেন। একদা সমৃদ্ধ সভ্যতার অধিকারী ভারত দীর্ঘ সময় বিশ্বমঞ্চে নিজের ভূমিকা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশ এখন নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গর্বকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। যোগ, প্রাণায়াম ও ধ্যানের মতো প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও সুশাসনের সাথে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভারতের এই ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমলে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের অর্থনীতি বিশ্বের ১১তম স্থান থেকে উঠে এসে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির পথে দ্রুত ধাবমান। ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, জন-ধন অ্যাকাউন্ট, ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) এবং ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৫১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রবাবু নাইডু পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, আবাসন প্রকল্প এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কোভিড-১৯ অতিমারি বা বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বকেই দিয়েছেন তিনি। হাইওয়ে, বন্দর, রেলওয়ে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জি সেক্টরে প্রধানমন্ত্রীর বিপুল বিনিয়োগের উদ্যোগ দেশের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিশেষে, নাইডু ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার যে নতুন জোয়ার দেখা দিয়েছে, তার কৃতিত্বও প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গিকে দিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy