২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বনাম তৃণমূলের লড়াই চরমে পৌঁছেছে। আই-প্যাকের (I-PAC) অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারির প্রতিবাদে মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো অগ্নিশর্মা মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।
ইডির বিরুদ্ধে ‘চরম মরিয়া’ তকমা: সাংবাদিক সম্মেলনে ডেরেক ও’ব্রায়েন কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-কে ‘এক্সট্রিমলি ডেসপারেট’ বা ‘চরম মরিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৃণমূলকে হারাতে না পেরে এখন ব্যাকডোর দিয়ে ভোট-কুশলীদের দমানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। ডেরেকের কথায়:
“বিজেপি জানে মানুষ তাদের সঙ্গে নেই, তাই নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তারা ইডি-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এখন দিল্লির নির্দেশে চরম ডেসপারেট হয়ে কাজ করছে।”
আই-প্যাককে টার্গেট করার নেপথ্যে: তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, আই-প্যাক যেহেতু দলের প্রচার ও রণকৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তাই তাঁদের নেতৃত্বকে গ্রেফতার করে আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে চাইছে কেন্দ্র। তৃণমূলের অভিযোগ, এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
পাল্টা দিচ্ছে বিজেপিও: তৃণমূলের এই ‘এজেন্সি কার্ড’-এর পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি শিবিরও। তাদের দাবি, দুর্নীতি করলে আইন নিজের পথেই চলবে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা পেশাগত পরিচয় থাকতে পারে না। আই-প্যাক হোক বা তৃণমূল নেতা—তদন্ত থেকে রেহাই মিলবে না কারোরই।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই কড়াকড়ি এবং শাসকদলের প্রতিবাদ বাংলার রাজনীতির মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। আই-প্যাক কর্তার গ্রেফতারি কি সত্যিই তৃণমূলের ভোট মেশিনারিতে প্রভাব ফেলবে, নাকি এর ফলে প্রাপ্ত জনসমর্থন মমতার পাল্লা ভারী করবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





