রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস সভা করতেই ধুন্ধুমার! ‘দলিত বলে মঞ্চ পবিত্র করতে হবে?’ মোদী সরকারকে সোজাসাপ্টা আক্রমণ খাড়্গের

উত্তরাখণ্ডের রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের জনসভার ঠিক পরেই রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। জনসভার পর সেই সভামঞ্চ ‘শুদ্ধিকরণ’ করতে যজ্ঞ করার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়্গে। দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষোভ প্রকাশ করে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই দেশে কি দলিতদের সত্যিই কোনও সম্মানজনক স্থান নেই?

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন হলদোয়ানির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ‘বিজয় শঙ্খনাদ’ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু সেই সভা সমাপ্ত হওয়ার মাত্র দু’দিন পরেই, ‘শ্রী রাম সেনা’ নামের একটি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ওই জনসভাস্থলে গিয়ে একটি ‘শুদ্ধিকরণ’ যজ্ঞের আয়োজন করে। এই তীব্র অপমানজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে কঠোর ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন খাড়্গে।

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “রামলীলা ময়দান এমন একটি উন্মুক্ত ঐতিহাসিক জায়গা, যা দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল তাদের জনসভা এবং প্রচারের জন্য ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ওরা যা করেছে, তা শুধু অমানবিক নয়, বরং সনাতন ধর্মের মূল নীতিরও সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে দেশটাকে বিভাজিত করতে এবং বিভিন্ন জাতের মধ্যে ঘৃণা ও সংঘাত তৈরি করতে চাইছে। সেখানে আচমকা যজ্ঞ করার কী এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন পড়েছিল?” খাড়্গে জোরালো সুরে প্রশ্ন তোলেন যে, তিনি লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের সামনে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি কোনও ধর্ম বা বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটিও কটূক্তি করেননি। তিনি শুধুমাত্র সরকারের বহুমুখী ব্যর্থতা এবং জনবিরোধী নীতির কথাই তুলে ধরেছিলেন। তা সত্ত্বেও কেন তাঁর সভার পরে বিজেপির মদতপুষ্ট লোকেরা মঞ্চ ‘পবিত্র’ করার নামে জাতপাতের জিগির তুলল? গণতন্ত্রে এই ধরনের নোংরা আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।

কংগ্রেস সভাপতির এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা জানান যে, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও সদস্য যুক্ত ছিলেন না। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গণেশ গোদিয়াল সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ওই বিতর্কিত ‘শ্রী রাম সেনা’ গোষ্ঠীটি আসলে বিজেপিরই একটি গোপন সহযোগী সংগঠন। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোদিয়াল আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন যে, মল্লিকার্জুন খাড়্গে দলিত সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ মানুষ বলেই বেছে বেছে এই তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। জাতপাতের সংকীর্ণ রাজনীতি ও ভেদাভেদের মাধ্যমে বিজেপি সমাজকে ভাঙতে চাইছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকা সত্ত্বেও ওই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ না করায় নৈনিতালের এসএসপি-র ভূমিকা নিয়েও চরম প্রশ্ন তোলেন উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের সভাপতি।

কংগ্রেসের এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে পিছু না হটে পালটা সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরও। উত্তরাখণ্ড বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র তথা ক্যাবিনেট মন্ত্রী খজন দাস পাল্টা দাবি করে বলেন, রামলীলা ময়দানে খাড়্গের সভার সময় এমন কিছু আপত্তিকর স্লোগান তোলা হয়েছিল যা সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের গভীর ভাবাবেগে সরাসরি আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, রামলীলা ময়দান একটি অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান। সেখানে অন্য ধর্মের সমর্থনে বা ধর্মীয় অনুভূতি উস্কে দিয়ে স্লোগান তোলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সবমিলিয়ে, দলিত সভা ও যজ্ঞের এই বিতর্ক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে এখন উত্তাপ তুঙ্গে।