নিউটাউনের ঘুনি বস্তিতে আগুনের নেপথ্যে কি SIR-এর চক্রান্ত? অমিত মালব্যর বিস্ফোরক টুইটে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

নিউটাউনের ইকো পার্কের অদূরে অবস্থিত বিতর্কিত ‘ঘুনি বস্তি’ এখন কার্যত ছাইয়ের স্তূপ। বুধবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে শতাধিক ঝুপড়ি। তবে এই আগুন কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? SIR (সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট রিকগনিশন) বা অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার আবহে এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়।

বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ: “আগুন নিয়ে খেলছে তৃণমূল”
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সরাসরি আঙুল তুলেছেন শাসকদলের দিকে। নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি দাবি করেছেন, SIR-এর খসড়া তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল অনুপ্রবেশকারীরা। সেই তথ্য ধামাচাপা দিতে এবং ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম তোলার সুযোগ তৈরি করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, এটা তৃণমূলের এক পরিকল্পিত কারসাজি।

পাল্টা তোপ তৃণমূলের: “ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি”
অভিযোগ অস্বীকার করে কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি পাল্টে প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপিই বস্তি পুড়িয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে না তো?” তাঁর দাবি, বিজেপি প্রতিদিন নতুন নতুন মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। SIR-এর খসড়া তালিকায় বিজেপির দাবি করা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারীর হদিস না মেলাতেই তারা এই ধরনের মরিয়া আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আতঙ্কে বাসিন্দারা: ফাঁকা হচ্ছিল বস্তি
স্থানীয়দের দাবি, ঘুনি বস্তিতে বসবাসকারীদের বড় অংশই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। SIR-এর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ভয়ে অনেক ঝুপড়ি ফাঁকা হতে শুরু করেছিল। ঠিক সেই সন্ধিক্ষণেই এই বিধ্বংসী আগুন যেন রহস্যকে আরও ঘনীভূত করল। শীতের সন্ধ্যায় চোখের নিমেষে ছাই হয়ে গিয়েছে সাজানো ঝুপড়িগুলো, ভিটেমাটি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বহু মানুষ।

SIR-এর খসড়া তালিকার অস্বস্তি ঢাকতেই কি এই আগুন, নাকি অনুপ্রবেশকারী তকমা ঘোচানোর কোনো ছক? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, তবে উত্তর খুঁজছে গোটা তিলোত্তমা।