নবান্ন ছেড়ে নিউটাউনে নতুন প্রশাসনিক ভবন! ৫৪টি দফতর একই ছাদের নিচে আনতে বিরাট মাস্টারপ্ল্যান রাজ্য সরকারের

রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে জল্পনা এবং পরিকল্পনা এবার এক নতুন মোড় নিয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং নয়, এবার বর্তমান প্রধান প্রশাসনিক ভবন ‘নবান্ন’ থেকেও দপ্তর সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জোরালো পরিকল্পনা চলছে। রাজ্যবাসীর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলিকে একই ছাদের তলায় নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সেন্ট্রাল অফিস বা সদর কার্যালয় গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে রাজ্যের পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্যের ৫৪টি দফতরকেই একটি সুসংহত ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসা। বর্তমান ভবনগুলিতে জায়গার নানা সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে। নিউটাউনের কোন এলাকায় এই বিশাল প্রকল্প গড়ে তোলা হবে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নিউটাউনের নজরুলতীর্থ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন প্রায় ১৭.২৮ একর জমি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও দুই-একটি বিকল্প জমিও খতিয়ে দেখছেন। প্রসঙ্গত, এই জমিতে পূর্ববর্তী সরকারের আমলেই একটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে এই নতুন প্রশাসনিক কার্যালয় নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার একটি কড়া টার্গেট নির্ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর বর্তমান প্রশাসনিক প্রধান নবান্নে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। সেই সময় জানানো হয়েছিল যে মহাকরণের হেরিটেজ সংস্কারের কাজের জন্য মাত্র ছয় মাসের সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে নবান্নে কাজ চালনো হবে। কিন্তু সেই ছয় মাস পেরিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, অথচ মহাকরণে আর ফেরা হয়নি। লালবাড়ি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক মহাকরণে সংস্কারের কাজ শ্লথ গতিতে চলার কারণে এখনও সেখান থেকে স্বরাষ্ট্র, ভূমি সংস্কার, আইন, কৃষি এবং পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্টের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার অতীতে মহাকরণে ফিরে যাওয়ার কথা বললেও, বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে সমস্ত দফতরকে একটি অত্যাধুনিক এবং সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরিত করার এই নতুন ব্লু-প্রিন্ট এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।