বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় স্বস্তি, পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা, জানুন বিস্তারিত

কলকাতা পুরসভা এলাকার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকা রাজ্য সরকারি দফতরের অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্য এল এক স্বস্তিদায়ক খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ একাংশ মেটানোর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই কলকাতার বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা কয়েক হাজার পেনশনভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা জমা পড়তে শুরু করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে।

বকেয়া ডিএ মামলার মূল আবেদনকারী এবং কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকারি সূত্র মারফত তারা জানতে পেরেছেন যে গত সপ্তাহে সাত হাজারের কিছু বেশি পেনশন প্রাপক তাঁদের বকেয়া টাকা হাতে পেয়েছেন। কলকাতার বাইরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বহু পেনশন প্রাপক ইতিমধ্যেই দুই কিস্তিতে তাঁদের সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ বুঝে পেলেও, কলকাতা পুরসভা এলাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টধারীদের ক্ষেত্রে অর্থ দফতর ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের মধ্যে বকেয়া টাকার হিসাব নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এই জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল এই পেমেন্ট। পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল অফিস এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। এরপর রাজ্য অর্থ দফতর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৭ জুলাই রাজ্য অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল যে, যত দ্রুত সম্ভব যোগ্য পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ৫০ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া হবে। তবে ওই বিজ্ঞপ্তির পরেও নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছানোয় স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছিলেন বহু প্রবীণ পেনশন প্রাপক। অবশেষে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে বকেয়া টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তাঁরা। ইন্দু মালহোত্রা কমিটির পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার ক্ষেত্রে প্রধানত সাতটি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকা এই ধরনের পেনশন প্রাপকের মোট সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার।

সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা ইন্দু মালহোত্রা কমিটির রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি পেনশন প্রাপকের বকেয়া ডিএ এখনও পর্যন্ত নানা জটিলতার কারণে মেটানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আটকে থাকা এই মোট বকেয়া টাকার পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। অবসরের পর যারা ভিন্‌রাজ্যে চলে গিয়েছেন, এমন ১,৫৯৬ জন পেনশন প্রাপকের বকেয়া পাওনাও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখনও বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানগুলির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া ডিএ প্রদানের ব্যাপারে রাজ্য সরকার ইতিবাচক আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ইন্দু মালহোত্রা কমিটির রিপোর্ট সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ করার পর, বহুচর্চিত বকেয়া ডিএ মামলাটি মঙ্গলবার, ১৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য বিশেষভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের সমন্বিত বেঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলাকারীদের প্রবল আশা, এই শুনানির মাধ্যমেই হয়তো বকেয়া ডিএ মামলার একটি স্থায়ী ও দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পারে। কারণ, এই মামলাটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত একজন বিচারপতি চলতি মাসেই অবসর গ্রহণ করতে চলেছেন। ফলে মঙ্গলবারের এই বিচারপরামর্শ ও শুনানিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও নির্ণায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজ্যের লক্ষাধিক পেনশন প্রাপক।