অমিতাভ বচ্চনের আসল নাম জানলে চমকে যাবেন! বিগ বির জন্মসূত্রে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক পরিচয় কী?

বলিউডের মহাতারকা তথা বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী অমিতাভ বচ্চন আজ সকলের কাছেই ‘বিগ বি’ নামে পরিচিত। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তির আসল নাম ‘অমিতাভ’ এবং পদবি ‘বচ্চন’— দুটির একটিও তাঁর জন্মসূত্রের প্রকৃত নাম বা পদবি ছিল না! শুনতে অবাক লাগলেও এই চাঞ্চল্যকর সত্যটি সম্প্রতি খোদ অমিতাভ বচ্চন নিজেই প্রকাশ্যে এনেছেন, যা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন তাঁর কোটি কোটি অনুরাগী।

জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC)-এর মঞ্চে আড্ডায় মেতে উঠে নিজের নাম ও পদবি পরিবর্তনের পেছনের সেই ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর গল্প শোনান খোদ অভিনেতা। কেবিসি-র সেটে প্রয়াগরাজের প্রতিযোগী ডঃ জাগ্রতির সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথনের সময় অমিতাভ ফিরে যান তাঁর শৈশবের দিনগুলিতে। তিনি স্মরণ করেন প্রয়াগরাজের তাঁর প্রথম স্কুল ‘সেন্ট মেরি’স কনভেন্ট’-এর পুরনো স্মৃতি। বিগ বি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা, বিখ্যাত এবং প্রথিতযশা কবি হরিবংশ রাই বচ্চন সমাজ ব্যবস্থার প্রচলিত জাতপাত ও কড়া সামাজিক বর্ণপ্রথার তীব্র বিরোধী ছিলেন। অমিতাভকে যখন প্রথম স্কুলে ভর্তি করানো হয়, তখন ভর্তির ফর্মের একটি বিশেষ কলামে শিক্ষার্থীর ‘জাতি বা বর্ণ’ (Caste) উল্লেখ করার নিয়ম ছিল।

সমাজ থেকে জাতপাতের এই সংকীর্ণ প্রথাকে সরাসরি অস্বীকার করে সেদিন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন হরিবংশ রাই বচ্চন। তিনি স্কুলের ফর্মে জাতির জায়গায় কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ না লিখে সোজাসুজি কলম দিয়ে লিখে দিয়েছিলেন— ‘আমাদের জাতি বচ্চন’। আসলে কবি তাঁর নিজের সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘বচ্চন’-কেই সমগ্র পরিবারের নতুন পদবি ও পরিচয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আর এভাবেই অফিশিয়াল খাতায়-কলমে চিরতরে তৈরি হয়ে যায় ‘অমিতাভ বচ্চন’ নামটি। যার জেরে অমিতাভের জন্মসূত্রের আসল নাম ‘ইনকিলাব শ্রীবাস্তব’ থেকে বদলে গিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য আইকনে পরিণত হয়।

প্রখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চন এবং তেজী বচ্চনের দুই সন্তান— বড় ছেলে অমিতাভ এবং তাঁর ছোট ভাই অজিতাভ বচ্চন। খাজা আহমেদ আব্বাসের ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবির হাত ধরে বলিপাড়ায় অভিনয়ের খাতা খুলেছিলেন অমিতাভ। তবে রূপকথার মতো মসৃণ ছিল না তাঁর শুরুর দিকের এই পথচলা। কেরিয়ারের একদম শুরুর দিনগুলোতে বক্স অফিসে একের পর এক ফ্লপ ছবির মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি একসময় অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ব্যর্থতার সমস্ত তকমা ঝেড়ে ফেলে ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে ‘জঞ্জির’ ছবির হাত ধরে তাঁর ভাগ্যের চাকা সম্পূর্ণরূপে ঘুরে যায়। এরপর ‘দিওয়ার’, ‘ত্রিশূল’, ‘শোলে’, ‘কালা পত্থর’-এর মতো একের পর এক সর্বকালের সেরা সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নেন। রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন অপ্রতিরোধ্য ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অবতারে, আর তারপর সাধারণ এক অভিনেতা থেকে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অবিসংবাদিত ‘শহেনশাহ’।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty