বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী ফলাফলের পর দলের অন্দরে যখন অস্বস্তি চরমে, ঠিক তখনই রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা নিয়েছিল শাসকদল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে একটি বড়সড় জনসভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সভার অনুমতি পাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল টানাপোড়েন। কলকাতা পুলিশের তরফে রানি রাসমনি রোডে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূলের। বিকল্প হিসেবে পুলিশ ওয়াই চ্যানেলে সভা করার প্রস্তাব দিলেও, সেই জায়গা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।
সূত্রের খবর, তৃণমূলকে ওয়াই চ্যানেলের জন্য নতুন করে আবেদন করতে বলেছে পুলিশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সারা দিনের পরিবর্তে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য সভা করার অনুমতি দিতে চাইছে কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রানি রাসমনি রোডে কর্মসূচির জন্য আমরা অনেক আগেই চিঠি দিয়েছিলাম। সেখানে মঞ্চ বাঁধার সময় পুলিশ বাধা দেয়। রানি রাসমনি রোড বরাবরই সভা-সমিতির জন্য নির্ধারিত জায়গা, অথচ অন্যান্য দলকে অনুমতি দেওয়া হলেও আমাদের কেন আটকানো হচ্ছে?”
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “পুলিশ এখন আমাদের নতুন করে ওয়াই চ্যানেলের জন্য আবেদন করতে বলছে। কিন্তু আমরা তো রানি রাসমনি রোডের জন্য চিঠি দিয়েছি। পুলিশ যদি আমাদের আবেদন খারিজ করে, তবে তাদেরই লিখিতভাবে তা জানানো উচিত এবং বিকল্প জায়গা হিসেবে ওয়াই চ্যানেলের কথা উল্লেখ করা উচিত। আমরা কেন বারবার আবেদন করতে যাব?”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শাসকদলের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিরোধীরাও আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, “তৃণমূল যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভা করার জন্য ১০৪ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। আজ যখন তারা একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তখন মানুষ তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। ধর্মতলায় অমিত শাহের সভার জন্যও আমাদের বারবার আদালতের অনুমতি নিতে হয়েছে। তৃণমূলের এই পরিস্থিতি দেখে এখন রাজ্যবাসী হাসছে। সময় বদলেছে, আর তৃণমূলকে বাংলার মানুষ এখন আর গ্রহণ করছে না। দলটির পতন অনিবার্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই সভা করার প্রচেষ্টা মূলত দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি কৌশল। কিন্তু পুলিশের কড়াকড়ি এবং প্রশাসনের সাথে এই বিরোধ তৃণমূলকে আরও কোণঠাসা করে ফেলছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যখন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা। সব মিলিয়ে, রাজপথের এই লড়াই এখন নবান্ন বনাম পুলিশের এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভা সফল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





