গোমাংস ভক্ষণ ও গোহত্যা নিয়ে সারা দেশে চলমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় তরজার মধ্যেই এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সম্প্রতি মুসলিম সমাজের একাংশ এবং বেশ কয়েকজন মৌলবি ও ইমামের পক্ষ থেকে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি তোলা হয়। বিজনৌরে আয়োজিত এক জনসভা থেকে এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরাসরি মুসলিম সমাজের দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। তিনি বলেন, “একটা জিনিস লক্ষ্য করছি। মৌলবি-মৌলানারা এখন বলছেন, গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করো। আরে, গোমাতা তো আমাদের মা। জন্ম-জন্মান্তর ধরে আমাদের সম্পর্ক তাঁর সঙ্গে। মা এবং সন্তানের সম্পর্কের মাঝে কি কোনো স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে? মাকে সম্মান করার কথা কি কোনো সন্তানকে বলে দিতে হয়? আমাদের সংস্কার অনুযায়ী, আমরা গোমাতাকে ঠিক সেই মর্যাদাই দিই যা আমরা গঙ্গামাতাকে দিই।”
এরপরই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে যোগী বলেন, “যাঁরা গরুকে ‘পশু’ বলে সম্বোধন করছেন, তাঁদের বুদ্ধিই পশুর মতো। আমাদের কাছে গোমাতা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ‘রাষ্ট্র মাতা’। এর জন্য নতুন করে কোনো সরকারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই।” জনসভায় উপস্থিত জনতা তাঁর এই মন্তব্যে তুমুল করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
পাশাপাশি, মুসলিম সমাজের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে যোগী বলেন, “একদিকে গোহত্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া, আর অন্যদিকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তোলা—এই দ্বিচারিতা মানুষ দেখছে। বকরি ইদের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে গোমাতার ছবি দিয়ে অভিনন্দন বার্তা দিচ্ছিলেন, যা কাম্য নয়। উত্তরপ্রদেশে গোহত্যার পরিণাম কী হয়, তা আপনারা জানেন। না জানলে যারা জানে, তাদের থেকে বুঝে নিন। নতুবা এর ফল কয়েক প্রজন্ম ধরে মনে রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য, গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি কেবল মুসলিম সমাজ থেকেই ওঠেনি, এর আগে বিজেপির অন্দরেও এই দাবি বারবার জোরালো হয়েছে। ২০২১ সালে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কিশোরী লাল মীনা রাজ্যসভায় এই দাবি তুলেছিলেন। ২০২৩ সালে বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভাগীরথ চৌধরিও সরকারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আপাতত এই ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্য একদিকে যেমন হিন্দুত্ববাদী আবেগকে উসকে দিয়েছে, তেমনই বিরোধীদের চাপে ফেলার একটি কৌশলী পদক্ষেপ। গোহত্যা ও জাতীয় পশু ঘোষণার বিতর্ক যে আগামী দিনে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা যোগীর এই কঠোর হুঙ্কার থেকেই স্পষ্ট।





