“ধর্মকে সম্মান করি, অন্ধবিশ্বাসকে নয়!”-‘লাভ জিহাদ’ থেকে ‘পিকে’ বিতর্ক মুখ খুললেন আমির

দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘পিকে’ ছবি এবং ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আমির স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধর্মকে ছোট করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই ছিল ওই ছবির মূল বার্তা।

‘পিকে’ নিয়ে বিতর্কের জবাব ২০১৪ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘পিকে’ নিয়ে বহু বছর ধরে একাংশের অভিযোগ ছিল যে, ছবিটি হিন্দু ধর্মকে আঘাত করেছে। এই প্রসঙ্গে আমির বলেন, “ছবিটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে তৈরি হয়নি। ধর্মের নামে ছড়িয়ে পড়া অন্ধবিশ্বাস, ভণ্ডামি এবং মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে যে প্রতারণা করা হয়, তার বিরুদ্ধেই ছিল ছবির মূল প্রশ্ন।” তিনি দর্শকদের অনুরোধ করেন, ছবিটি মন দিয়ে দেখলে স্পষ্ট হবে যে, সব ধর্মের অসাধু ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকেই ছবির মাধ্যমে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। কোনো ধর্মকেই অপমান করা হয়নি।

‘লাভ জিহাদ’ বিতর্কে ব্যক্তিগত উদাহরণ আমির খানের বিরুদ্ধে ওঠা ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমার দুই বোন এবং আমার মেয়ে—সকলেই হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন। যদি আমার পরিবারে ধর্মের ক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা বা বিদ্বেষ থাকত, তবে এটা কখনোই সম্ভব হতো না।”

দেশপ্রেম ও ধর্ম নিয়ে অবস্থান দেশপ্রেম নিয়েও নিজের স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন আমির। তিনি বলেন, “আমি একজন গর্বিত ভারতীয়। আমি বরাবরই সন্ত্রাসবাদের বিরোধী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতাকে আমি কুর্নিশ করি।” ধর্ম নিয়ে আমিরের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, ধর্ম মানুষকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার শিক্ষা দেয়। কিন্তু ধর্মের নামে ব্যবসা বা কুসংস্কার চললে তার বিরোধিতা করা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

আমির খানের এই সাবলীল ও স্পষ্ট বক্তব্য বলিউড মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গুজব বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ছবি বা ব্যক্তিকে বিচার না করে বাস্তব ও তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেতা।