দুর্যোগে জর্জরিত দেশ, এবারের পুজোয় রেকর্ড পর্যটক আসতে পারে বাংলায়, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

এবার দুর্গাপুজোয় পশ্চিমবঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উত্তরকন্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, যেহেতু দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে, তাই পর্যটকরা বিকল্প হিসেবে বাংলাকে বেছে নিতে পারেন।

বাংলায় রেকর্ড পর্যটকের আশা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর পুজোয় বাংলায় প্রায় ১৯ কোটি পর্যটক এসেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “দেশের অনেক পর্যটনস্থলে এখন যাওয়া বন্ধ। বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের রাস্তায় ধস নেমেছে, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, মুম্বাই—সবই জলে ভাসছে। মানুষ সেখানে যেতে পারছেন না।” এই পরিস্থিতিতে বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উৎসবের পরিবেশ পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে তার বিশ্বাস।

পুজোর পর পাহাড়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী
পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সব ঠিক থাকলে তিনি পুজোর পর পাহাড় সফরে আসবেন। পুজো উদ্যোক্তাদের মণ্ডপ তৈরির সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “এই বর্ষার মধ্যে পুজো উদ্যোক্তারা ঠিকমতো মণ্ডপ বানাতে পারছে না। এবার পুজো অনেক আগে, তাই বোধন ষষ্ঠীর একদিন আগেই হচ্ছে।”

রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন। তিনি বলেন, “একদিকে নেপালের জল, একদিকে ভুটানের জল, অন্যদিকে সিকিমের জল—এসবের সঙ্গে তিস্তা নদীর জল মিশে উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।” দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসি, মাইথন ও পাঞ্চেতের জল ছেড়ে দেওয়ার কারণেও বন্যা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আগে গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে রাজ্যকে টাকা দেওয়া হত, এখন এক পয়সাও দেওয়া হয় না।” তিনি বলেন, “দুর্যোগ সবার জন্যই আসে, এটা কেন্দ্রকে বুঝতে হবে।”