“নেপালকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নেহরু!”-কেন জানেন?

নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে জেন জি (Gen Z) বিক্ষোভের জেরে সরকার পতনের ঘটনা নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। এই আবহে ৭৫ বছর আগে নেপালের রাজা ত্রিভূবন বীর বিক্রম শাহের ভারত ভুক্তির প্রস্তাব এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
১৭ বছরে ১৪ বার প্রধানমন্ত্রী বদল, লাগাতার দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় নেপালবাসীর হতাশা চরমে। ২০০৬ সালে মাওবাদী শাসনের পর স্থিতিশীলতার আশা করা হলেও তা পূরণ হয়নি। বরং বর্তমানে Gen Z-এর গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারের পতন ঘটেছে, যা বাংলাদেশের মতো অন্য প্রতিবেশী দেশেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে তুলনীয়।
নেপালকে ভারতের সঙ্গে জুড়তে চেয়েছিলেন রাজা!
১৯৫১ সালে নেপালের রাজা ত্রিভূবন বীর বিক্রম শাহ সেদেশের অস্থির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের আঁচ পেয়েছিলেন। আর তাই তিনি নেপালকে ভারতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর লেখা বই ‘দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স’-এ এই ঐতিহাসিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর বইয়ে লিখেছেন, রাজা ত্রিভূবন বীর বিক্রম শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে নেপালকে ভারতের অংশ করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু নেহরু এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, নেপাল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, এবং তার স্বাধীন থাকা উচিত।
নেহরু বনাম ইন্দিরা: সিকিমের উদাহরণ
প্রণব মুখোপাধ্যায় মনে করেন, নেহরুর জায়গায় যদি ইন্দিরা গান্ধী থাকতেন, তবে তিনি এই সুযোগ হাতছাড়া করতেন না। তিনি সিকিমের উদাহরণ তুলে ধরেছেন, যা ইন্দিরা গান্ধীর আমলেই ভারতের অংশ হয়। নেহরু যেখানে কূটনৈতিকভাবে নেপালকে স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন, সেখানে ইন্দিরা গান্ধী সম্ভবত রাজনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানোর পক্ষে ছিলেন।
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর নেপালে রানাদের শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৫১ সাল থেকে সেখানে ক্ষমতা বদলের পালা শুরু হয়। রাজা ত্রিভূবন দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করেন, এবং সেই সময়ই তিনি ভারতকে নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
নেহরুর সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত আজ নেপালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।