দিল্লির বাতাস এখন ‘প্রাণঘাতী বিষ!’ ৮০% পরিবারে অসুস্থতা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিও চিন্তিত; বাড়ছে জনস্বাস্থ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

শুক্রবার সকালে দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা বিভিন্ন জায়গায় বিপজ্জনক স্তর ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা এক গুরুতর জনস্বাস্থ্য সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে যে, গত এক মাস ধরে দিল্লি-এনসিআরের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্য বিষাক্ত বায়ুর প্রভাবে অসুস্থতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিকে অনেক বিশেষজ্ঞই ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ জারির সমতুল বলে মত দিয়েছেন।

সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির গড় দূষণ মাত্রা (AQI) ছিল ৩৭০, যা টানা আটদিন ধরে ‘ভীষণ খারাপ’ (Very Poor) স্তরে থাকার রেকর্ড। যদিও গড় হিসেব ভুল হতে পারে, কারণ চাঁদনি চক, আনন্দ বিহার এবং মুন্ডকা সহ প্রায় ১৮টি কেন্দ্রে দূষণের স্তর ৪০০ থেকে ৪৫০ এর আশেপাশে ধরা পড়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ছয়দিন অবস্থা ‘বিপজ্জনক’ থেকে ‘অতি খারাপ’ স্তরে ওঠানামা করবে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি মন্তব্য করেন, মাস্কেও আর কোনো কাজ হচ্ছে না, তাই আইনজীবীরা যেন ‘বাড়ি বসে অনলাইনে সওয়াল’ করেন।

এদিকে, এইমসের ডাক্তার অনন্ত মোহন পরিস্থিতিকে ‘প্রাণঘাতী’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দূষণের কারণে হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও দূষণ সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ডাক্তারদের মতে, এই দূষণ কেবল শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করছে না, হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকেও নষ্ট করছে। এমনকী গর্ভজাত সন্তানেরও ক্ষতি হচ্ছে। ডাক্তার অনন্ত মোহন নিশ্চিত, এই ভয়াবহ দূষণের জেরে দিল্লিবাসীর আয়ুষ্কাল কমে যাবে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে ফসলের গোড়া পোড়ানো হচ্ছে, যার ধোঁয়া বাতাসের গতিতে দিল্লি-এনসিআরের দিকে ভেসে আসছে।