আল ফালাহ’র অর্থ কোথা থেকে আসছিল? ED তদন্ত শুরু, গ্রেপ্তার সিদ্দিকি পরিবারের সদস্য!

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে যোগসূত্র মেলার পর তদন্তকারীদের নজরে এসেছে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকি এবং তাঁর পরিবার। এবার সেই পরিবারের জন্মভিটে— মধ্যপ্রদেশের মোহতে অবস্থিত একটি চারতলা বাড়ি— ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল ‘মোহ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড’। নির্দেশনার কারণ হিসাবে ‘বেআইনি নির্মাণ’কেই দায়ী করা হয়েছে।

এলাকায় ‘মৌলানা বিল্ডিং’ নামে পরিচিত এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকির বাবা মহম্মদ হাম্মাদ সিদ্দিকি ১৯৯০ সালে। বাড়িটিতে ২৫টি জানলা এবং একটি বড় বেসমেন্ট রয়েছে।

বেআইনি ঘোষণার কারণ

ক্যান্টনমেন্টের ইঞ্জিনিয়ার হরিশঙ্কর কালোয়া এই নোটিস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিল্ডিংটি এখনও প্রয়াত হাম্মাদ সিদ্দিকির নামেই রয়েছে এবং মালিকানা পরিবর্তন হয়নি। ক্যান্টনমেন্টের আইন অনুসারে, পুনরায় নির্মাণ বা সংস্কারের অনুমতি কেবল রেজিস্টার টাইটেলহোল্ডার বা মালিককেই দেওয়া হয়। যেহেতু মালিকানা পরিবর্তন হয়নি, তাই বাড়িটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত না দিতে পারার অভিযোগে পাওনাদারদের চাপের মুখে ২০০০ সালে জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকি সপরিবারে মোহত ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বিস্ফোরণ যোগ ও ED তদন্ত

গত ১০ নভেম্বর দিল্লির মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় ধৃতদের প্রায় সকলের সঙ্গেই কোনও না কোনও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের। এমনকি, ‘সুইসাইড বম্বার’ উমর-উন-নবিও আল ফালাহ-র সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

এই বিস্ফোরণের ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থের উৎস জানতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, জাভেদের ভাই হামুদ আহমেদ সিদ্দিকিকে গত ২০ বছরের পুরোনো একটি বিনিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

বেআইনি নির্মাণ এবং বিস্ফোরণ কাণ্ডের যোগসূত্র— এই দুই মিলিয়ে সিদ্দিকি পরিবারের জন্মভিটে ভাঙার নির্দেশ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।