পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড জুড়ে ৪০টিরও বেশি জায়গায় ইডির মেগা হানা! কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানে তোলপাড়

অবৈধ কয়লা খনন, চুরি এবং বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এক বড়সড় অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার ভোর থেকে দুই রাজ্যে ৪০টিরও বেশি জায়গায় এই সমন্বিত তল্লাশি অভিযান চলছে।
ঝাড়খণ্ডে ইডির প্রধান নিশানায় লালবাবু সিংহ ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে ইডির প্রধান নিশানায় রয়েছে দেব প্রভা কোম্পানি এবং এর মালিক তথা বিতর্কিত কয়লা ঠিকাদার লালবাবু সিংহ ওরফে এলবি সিংহ। ভোরবেলা এলবি সিংহের বাসস্থান ‘দেব ভিলা’ সহ ধানবাদে তাঁর সঙ্গে জড়িত মোট ১৮টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ, বিসিসিএল-এর আউটসোর্সিং কাজে অনিয়ম, অবৈধ কয়লা বেচাকেনা এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনই এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
তল্লাশির সময় ধানবাদে এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইডি দল বাড়িতে ঢুকতে গেলে অভিযুক্ত এলবি সিংহ তাঁর পোষা কুকুরদের ছেড়ে দেন, যাতে তদন্তকারী দল বাধাগ্রস্ত হয়। তদন্ত সংস্থার দাবি, তিনি নিজেও বেশ কয়েক ঘণ্টা বাড়ির গেট খোলেননি। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় ইডি বাড়িতে প্রবেশ করে এবং প্রয়োজনীয় নথি ও ডিজিটাল ডেটা বাজেয়াপ্ত করে। ঝাড়খণ্ডে মোট ১৮টি জায়গায় তল্লাশি চলছে, যার আওতায় আছেন অনিল গয়াল, সঞ্জয় উদ্যোগ, অমর মণ্ডল সহ এলবি সিংহের ব্যবসায়িক অংশীদাররা।
পশ্চিমবঙ্গে ২৪টি স্থানে অভিযান ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ইডি একযোগে ২৪টি স্থানে চিরুনি তল্লাশি চালায়। দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন ঠিকানায় চলছে এই অভিযান। যাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন নরেন্দ্র খারকা, অনিল গয়াল, যুধিষ্ঠির ঘোষ এবং কৃষ্ণ মুরারি কয়াল।
ইডি সূত্রে খবর, বাড়ি, অফিস, কোক প্ল্যান্ট এবং অবৈধ টোল সংগ্রহকারী বুথ পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই অভিযানে বড় অঙ্কের অঘোষিত নগদ টাকা, সোনার গয়না, ডিজিটাল রেকর্ড ও অবৈধ লেনদেনের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, অবৈধ কয়লা ব্যবসার জাল এতটাই বিস্তৃত যে এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।