ইন্দোরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড, স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের ১৫ দিন আগেই নিজের নামে সম্পত্তি করলেন স্বামী!

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ডাক কুঞ্জ কলোনিতে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ডাক বিভাগে কর্মরত এক নারী কর্মীকে তাঁরই স্বামী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। নৃশংস এই ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত অখিলেশ সাইনি এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
কী ঘটেছিল সেইদিন?
নিহত উর্মিলার কর্মস্থল ছিল ইন্দোরের এমজি রোড পোস্ট অফিস। তিনি সেখানে পোস্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তাঁদের বাড়িতেই অখিলেশ তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান উর্মিলা। হত্যাকাণ্ডের পর অখিলেশ নির্বিকার চিত্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
মেয়ের স্কুলে গিয়ে নাটকীয় পদক্ষেপ
সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, স্ত্রীকে খুনের পর অখিলেশ সোজা চলে যায় তার মেয়ের স্কুলে। সেখানে সে মেয়েকে তার এটিএম কার্ড, পিন নম্বর এবং কিছু নগদ টাকা দেয়। সেই সময় মেয়েটি জানতও না যে বাড়িতে তার মায়ের কী ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। স্কুল থেকে ফিরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাকে পড়ে থাকতে দেখে সে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে। তার আর্তনাদে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মনোরমগঞ্জ থানার পুলিশ ফরেনসিক দলসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ করে।
সম্পত্তির লোভই কি কারণ?
তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে পুলিশের হাতে আসা নতুন তথ্য। পুলিশ জানতে পেরেছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৫ দিন আগে অখিলেশ সাইনি তাঁর স্ত্রী উর্মিলার বেশ কিছু সম্পত্তি ও আর্থিক নথিপত্রে নিজের নাম ‘নমিনি’ বা মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে যুক্ত করেছিলেন। এই বিষয়টি এখন পুলিশের সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে। অখিলেশ কি কেবল সম্পত্তির লোভে নিজের স্ত্রীকে খুন করল? পুলিশ এই আর্থিক দিকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। যদিও তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে।
পলাতক অভিযুক্ত, তল্লাশিতে পুলিশ
পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করেছে। তার সম্ভাব্য সমস্ত গোপন আস্তানায় হানা দেওয়া হলেও, ঘটনার দুই দিন পরেও তার কোনো হদিস মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ এগোচ্ছে। গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং পারিবারিক কলহের এমন ভয়াবহ পরিণতি ইন্দোরবাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। অখিলেশের গ্রেপ্তার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।