দলবদল নিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে বিচ্ছেদ? বিধায়ক নয়নার পদক্ষেপেই জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক কী করলেন তিনি?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে ফাটল এখন কেবল জল্পনা নয়, রীতিমতো প্রকট বাস্তব। রাজনীতির ময়দানে দলের পুরনো দুই সঙ্গীর লড়াই এখন পৌঁছেছে পারিবারিক অন্দরেও। একদিকে প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের মোহ কাটিয়ে ন্যাশানাল সিটিজেন পার্টিতে যোগ দিয়ে তৈরি করেছেন বিদ্রোহের সুর। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও, বৃহস্পতিবার বিধানসভার মেঝেতে দিলেন স্পষ্ট বার্তা।
স্বামী বনাম স্ত্রী: মুখোমুখি অবস্থান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের একাংশের কড়া সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। ‘ভ্রাম্যমান বিউটি পার্লার’ থেকে ‘প্রিয় বৌদিমনি’—নানা কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে। কিন্তু এতদিন সব অভিযোগের মুখে কার্যত স্পিকটি নট ছিলেন নয়না। তবে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তাঁর উপস্থিতি সব জল্পনায় জল ঢেলে দিল।
নয়নার চালে নতুন সমীকরণ বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় সরাসরি কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের বেঞ্চে বসতে। দলের বিদ্রোহীদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে শাসকদলের মূল শিবিরের পাশেই তিনি নিজের আসন বেছে নেন। যদিও এদিন তাঁকে সেভাবে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি, তবে তাঁর এই ‘বসা’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান ঘিরেও জল্পনা এদিকে, এই সমীকরণের অন্য এক মেরুতে রয়েছেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একদিকে নয়না যেখানে কালীঘাটপন্থীদের বেঞ্চে বসলেন, অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমকে এদিন দেখা গেছে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁদের শিবিরের বেঞ্চেই। তৃণমূলের অন্দরের এই ছবিই এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।
স্বামী যেখানে দলের প্রধান বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, সেখানে স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ঘরের মানুষ’ হয়ে থাকার সিদ্ধান্ত দলের অন্দরে কোনো নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।