অরূপের চিঠিতে সিলমোহর বিরোধী দলনেতার! তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন কি তবে এখন প্রশ্নের মুখে?

মেসি কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন তুমুল শোরগোল। দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বেসরকারি ব্যাঙ্ককে চিঠি লিখে সমস্ত আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন অরূপ। কিন্তু তৃণমূলের দাবি, গত ৫ জুনই অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। তাহলে ১২ জুন অরূপ কীভাবে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে চিঠি দিলেন? এই প্রশ্ন ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা।

বিতর্কের সূত্রপাত: গত ১২ জুন বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস দাবি করেছিলেন, দলের ভেতর একাধিক শিবির তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতির চূড়ান্ত টালমাটাল অবস্থা। দলীয় কোন্দলের কথা উল্লেখ করেই তিনি অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অরূপ অনেক আগেই পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। দলের এই দাবির প্রেক্ষিতে অরূপ বিশ্বাস নিজে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

ঋতব্রতর সমর্থন ও রাজনৈতিক সমীকরণ: সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপকে খোলাখুলি সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই বিভাজন ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অস্বচ্ছতা বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল। অরূপ বিশ্বাসের এই ‘অস্বাভাবিক’ চিঠি এবং দলের কোষাধ্যক্ষ পদের দাবি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।

মেসি কাণ্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি দলের অ্যাকাউন্ট নিয়ে অরূপের এই আইনি লড়াই এখন তৃণমূলের কাছে ‘কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে’। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে অরূপ কি একাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন? নাকি এর পেছনে তৃণমূলের অন্য কোনো গোষ্ঠীর মদত রয়েছে? সেই রহস্যই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।