‘দরজা খুললেই ঝাঁপ দেবেন ২০ সাংসদ’! তৃণমূলের ঘর ভাঙার হুঙ্কার সৌমিত্র খাঁ-র

রাজ্যে নতুন সরকারের যাত্রাপথ শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমীকরণ বদলের জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন প্রশাসনিক তৎপরতায় উন্নয়নের কাজ চলছে, ঠিক অন্যদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্ব যেন এখন নতুন রূপ নিয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অগোচরেই নাকি দলে বড় ধরনের ভাঙন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বিস্ফোরক দাবি করেছেন, “শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব যদি একবার দরজা খুলে দেন, তবে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন।” সৌমিত্র খাঁ-র এই মন্তব্য শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই দাবিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন কথা বলছে।

বুধবার কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকের দৃশ্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী ও শাসক দলকে আলাদা মঞ্চে দেখা যায়, কিন্তু এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের ৬ জন বিধায়ক এবং সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারকে দেখা যাওয়ায় জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছিল বিধানসভায়। প্রশাসনিক সভার পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে আসেন বিজেপির শীর্ষ বিধায়করা। সেই বৈঠকের মাঝেই হঠাৎ হাজির হন তৃণমূলের দুই বিধায়ক—উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির সন্দীপন সাহা।

উল্লেখ্য, এর আগেও দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হঠাৎ সাক্ষাৎ নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। ঋতব্রত দলের অন্দরে বরাবরই বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই তিনি দলীয় দুর্নীতি এবং নির্দিষ্ট কিছু নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ফলতা নির্বাচনে বিতর্কিত প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে দলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে সন্দীপন সাহাও দলের অন্দরে নেতৃত্বের একাংশের প্রতি নিজের অনাস্থার কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই বৈঠকের পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, “রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের পাশে থাকবেন।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ইঙ্গিতপূর্ণ। তবে কি তৃণমূলের অন্দরে দুটি পৃথক গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে? নাকি অভিষেকের ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই ‘ঘরছাড়া’ হওয়ার প্রচেষ্টা? রাজনীতির অলিগলিতে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এই বৈঠকের নেপথ্যে কি কোনো বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে? শাসক শিবিরের অন্দরে এই ভাঙন আটকানোর জন্য দল কতদূর যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy