ভারতীয় রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিলে (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন বিলের সাংবিধানিক সংশোধনীতেও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
দ্রুত কার্যকরের লক্ষ্য: আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদে বসছে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন। তার ঠিক আগেই এই বিলে অনুমোদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার চাইছে ২০২৭ সালের জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা যায়।
বড় হচ্ছে সংসদ: আসন সংখ্যায় চমক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল কার্যকর হলে লোকসভার বর্তমান চেহারা পুরোপুরি বদলে যাবে।
বর্তমান আসন: ৫৪৩টি।
প্রস্তাবিত আসন: প্রায় ৮১৬টি।
মহিলা আসন: মোট আসনের ৩৩ শতাংশ বা প্রায় ২৭৩টি আসন শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
দক্ষিণের আশঙ্কা ও প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস: সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির লোকসভা আসন বা প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এদিন বড় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে দক্ষিণের কোনও রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম কী? এই বিল আইন হিসেবে পাস হলে ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে নারী শক্তির এক নতুন যুগের সূচনা হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা এই বিলটি কার্যকর হলে লোকসভা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা জনপ্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক হবে। বিশেষ অধিবেশনে এই বিল ঘিরে সংসদের দু’কক্ষেই তুমুল চর্চার সম্ভাবনা রয়েছে।





