নতুন বছরের শুরুতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। পয়লা বৈশাখের সকালে রাজ্যপাল আর এন রবির ‘পরিবর্তন’-এর ডাক এবং তার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া প্রতিক্রিয়া ঘিরে চরমে উঠল সংঘাত। নির্বাচনী আবহে রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে পরোক্ষে ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্যপালের ‘পরিবর্তন’ ও পরিসংখ্যানের বোমা: এদিন সকালে কালীঘাটে পুজো দিয়ে লোকভবনে যান রাজ্যপাল আর এন রবি। সেখানে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একগুচ্ছ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি:
জিডিপি পতন: রাজ্যপালের দাবি, ১৯৬০-এর দশকে জাতীয় জিডিপিতে বাংলার অবদান ছিল ১০%, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫%-এ।
মাথাপিছু আয়: একসময় ৪টি রাজ্য এগিয়ে থাকলেও, এখন ১৫টি রাজ্য বাংলাকে ছাড়িয়ে গেছে।
শিল্পের হাল: দেশের সাড়ে পাঁচ কোটি MSME শিল্পের মধ্যে বাংলায় মাত্র ৩ লক্ষ নথিভুক্ত।
রাজ্যপাল যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য পরিবর্তন স্বর্গ থেকে আসবে না, এটি আমাদের ভিতর থেকেই আসতে হবে। দেশ এগোলেও বাংলা কেন পিছিয়ে থাকবে?” বাংলাকে ‘মা দুর্গার ভূমি’ উল্লেখ করে তিনি পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার সংকল্প নিতে বলেন।
‘লাটসাহেব’ বলে পাল্টা তোপ মমতার: রাজ্যপালের এই ‘পরিবর্তন’ শব্দটি ভালোভাবে নেয়নি শাসকদল তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের জনসভা থেকে নাম না করে রাজ্যপালকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন:
“বাংলার লাটসাহেব, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন! আমি নাম নেব না, তিনি আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান, তা না করে আমাকে গালি দিয়েছেন।”
মমতা আরও অভিযোগ করেন, রাজভবন থেকে আসা এই ধরনের বিবৃতি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজ্যের সাম্প্রতিক অশান্তির জন্য তিনি ঘুরিয়ে রাজ্যপাল, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রকেই দায়ী করেছেন।
রাজনৈতিক জল্পনা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যপালের এই পরিসংখ্যানভিত্তিক আক্রমণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা ‘গালি’ দেওয়ার অভিযোগ— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক লড়াই যে পয়লা বৈশাখ থেকেই নতুন মোড় নিল, তা বলাই বাহুল্য।





