বেহালা পশ্চিম মানেই গত ২৫ বছর ধরে ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গ। কিন্তু রাজনীতির পট পরিবর্তনে এবার সেই আসনে ‘দিদির ভরসা’ রত্না চট্টোপাধ্যায়। গতবার বেহালা পূর্ব থেকে জিতলেও এবার রত্নাকে পার্থর ছেড়ে যাওয়া আসনে লড়তে পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের ময়দানে নামার আগে হলফনামায় নিজের বিশাল সম্পত্তির হিসাব দিয়েছেন তিনি। সাড়ে ১৩ কোটি টাকার সম্পত্তির পাশাপাশি তাঁর নামে রয়েছে একাধিক মামলাও।
রত্নার সম্পত্তির খতিয়ান (একনজরে):
| সম্পত্তির ধরন | পরিমাণ / মূল্য (আনুমানিক) |
| মোট সম্পত্তি | প্রায় ১৩.২৭ কোটি টাকা |
| অস্থাবর সম্পত্তি | প্রায় ৪.৯ কোটি টাকা |
| স্থাবর সম্পত্তি | প্রায় ৮.৩৬ কোটি টাকা |
| নগদ টাকা | প্রায় ৪.৪৮ লক্ষ টাকা |
| সোনার গয়না | ৮৫৮.৭ গ্রাম (মূল্য ১.১৭ কোটির বেশি) |
| রুপোর গয়না | প্রায় ১০০০ গ্রাম |
| সঞ্চয় ও বিনিয়োগ | ৫৯ লক্ষ টাকার টার্ম ডিপোজিট ও মিউচুয়াল ফান্ড |
সম্পত্তির উৎস ও বৃদ্ধি:
২০২১ সালের তুলনায় রত্নার সম্পত্তি বেড়েছে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা। ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং ব্যাঙ্কের সুদই তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। কলকাতা (পর্ণশ্রী ও নিউ টাউন)-এ বাড়ি ছাড়াও জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মহেশতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে তাঁর প্রচুর জমি রয়েছে।
আইনি জটিলতা ও মামলা:
রত্না চট্টোপাধ্যায়ের নামে বর্তমানে ৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে (পর্ণশ্রী ও রবীন্দ্র সরোবর থানায়)। এর মধ্যে ভাঙচুর, দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত ও ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ থাকলেও এখনও কোনো মামলাতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ইতিহাস:
শিক্ষা: ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক।
পরিবার: রত্না রাজনীতির পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা মহেশতলার বিধায়ক দুলাল দাস এবং মা কস্তুরী দাসও বিধায়ক ছিলেন। এবার তাঁর ভাই শুভাশীষ দাসও মহেশতলা থেকে তৃণমূলের প্রার্থী।
অভিজ্ঞতা: শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। বেহালা পূর্বের বিধায়ক ও ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে তিনি সফল।
প্রতিপক্ষ কারা?
বেহালা পশ্চিমের এই মেগা লড়াইয়ে রত্নার মূল প্রতিপক্ষ হলেন বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ, সিপিএমের নিহার ভক্ত এবং কংগ্রেসের শৈবাল রায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে বেহালার এই ‘সেফ সিট’ রত্না ধরে রাখতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।





