ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চোরা স্রোত বইতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের একাধিক মুখপাত্রের বেসুরো মন্তব্য এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক এখন আইএসএফ-এ যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। ভাঙড় বিধায়কের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শুক্রবার বিধানসভার স্পিকার নির্বাচন ঘিরে সরগরম ছিল রাজনৈতিক মহল। সেখানে উপস্থিত হয়ে নওশাদ সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও বিধায়ক আমাদের দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, বহু পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সদস্যরাও যোগাযোগ করছেন। তবে দল এখনই এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না, দল আলোচনা করে ঠিক করবে কাদের নেওয়া হবে।”
নওশাদের এই দাবি তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটের পর থেকেই নিচুতলার কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, নওশাদ তারই সুযোগ নিতে চাইছেন। তবে শাসক দলের পক্ষ থেকে এই দাবিকে বিশেষ আমল দেওয়া না হলেও, অন্দরে যে ভাঙনের ভয় তৈরি হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
অন্যদিকে, শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনে এক অন্যরকম সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ে। স্পিকার নির্বাচনে বিরোধী দল বিজেপি সরকারের পাশে দাঁড়ানোয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “বিরোধীদের সকলকে এই ঐতিহাসিক বিধানসভায় আমার ও সরকারের পক্ষে ধন্যবাদ। প্রধান বিরোধী দলকে স্পিকার নির্বাচনে পরম্পরা বজায় রাখার জন্য বিশেষ সাধুবাদ জানাচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, অতীতের অম্লমধুর অভিজ্ঞতা বা ভুলত্রুটি নিয়ে আজ তিনি কোনো বিতর্ক করতে চান না, বরং সুস্থ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যেতে চান।
পাল্টা বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারীও গঠনমূলক বিরোধিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “সংবিধান ও বিধানসভার নিয়ম মেনেই আমরা কাজ করব। আশা করি প্রশ্নোত্তর পর্বে বিধায়কদের উপস্থিতি বাড়বে এবং মানুষ সরাসরি দেখতে পাবেন কারা তাঁদের হয়ে কাজ করছেন।” নওশাদ সিদ্দিকীও এই লাইভ সম্প্রচার এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের মর্যাদার পক্ষে সওয়াল করেন। তবে সৌজন্যের এই আবহ ছাপিয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নওশাদের দাবি—সত্যিই কি তৃণমূলের কোনো বড় অংশ ভাঙনের পথে? উত্তর দেবে সময়।





