লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে নয়া নিয়ম; কারা পাবেন আর কাদের নাম বাদ যাবে?

রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পর এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যের যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করবে। তবে এবার আর আবেদন করার জন্য রোদে পুড়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে অনলাইনের মাধ্যমে।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এই টাকা সরাসরি বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) মোডের মাধ্যমে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। যারা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নাম মূলত এই প্রকল্পের তালিকায় থাকবে। তবে টাকা দেওয়ার আগে একটি বিশেষ বিশ্লেষণ বা স্ক্রিনিং করা হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ‘এসআইআর’ (SIR) থেকে যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হবে। মৃত ব্যক্তি, এ দেশের নাগরিক নন এমন ব্যক্তি বা যারা সরকারি নিয়মে অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছেন, তাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ যাবে।

এই প্রকল্পের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর সহজ আবেদন প্রক্রিয়া। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং ইউজার-ফ্রেন্ডলি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত বা খুব অল্প শিক্ষিত মহিলারাও যাতে সহজে আবেদন করতে পারেন, সেই কথা মাথায় রেখেই পোর্টালটি নকশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, “ওয়ান পাস বা টু পাস মহিলারাও যাতে নিজে থেকে ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন, পোর্টালটি ঠিক ততটাই সহজ হবে।”

আবেদনের যোগ্যতা:
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. এটি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রকল্প।
৩. আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ২৫ বছর হতে হবে।
৪. আবেদনকারীর কাছে ডিজিটাল রেশন কার্ড (BPL/AAY/PHH) থাকা আবশ্যিক।
৫. আবেদনকারীর নিজস্ব একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
৬. তবে সরকারি কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি পেনশনভোগী মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
আবেদন করার সময় যে নথিগুলি হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন, সেগুলি হলো— ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। যেহেতু আধারের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হবে, তাই আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।

যদিও বর্তমানে কোনো অফলাইন ফর্ম বিলি বা নির্দিষ্ট অনলাইন লিঙ্ক সক্রিয় করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই পোর্টালটির উদ্বোধন হতে চলেছে। সরকারের এই নতুন প্রকল্পে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মহিলা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১ জুনের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে এখন প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি তুঙ্গে।