২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলায় প্রথম নির্বাচনী প্রচারে এসেই দ্বিমুখী আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং মালদহের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বাংলায় বিজেপিকে রোখার লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভরসা করা ভুল হবে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ: রাহুল গান্ধীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস আদতে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে। তিনি বলেন:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে শিল্প শেষ করেছেন, আর দেশে নরেন্দ্র মোদীও একই ক্ষতি করছেন। তৃণমূল কেবল দুর্নীতির রাজনীতি করে, তারা বিজেপির আদর্শের বিরুদ্ধে লড়তে পারে না। একমাত্র কংগ্রেসই সেই শক্তি যারা বিজেপির চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলে।”
নিশানায় ‘মোদানি’ ও কর্মসংস্থান: রাহুল তাঁর বক্তব্যে কর্মসংস্থান ইস্যুতে মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে ৮৪ লক্ষ যুবক বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে গৌতম আদানি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে দেশ বিক্রির আক্রমণও শানান তিনি।
কেন কংগ্রেসই বিকল্প? রাহুলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস অনেক সময় সমঝোতার রাজনীতি করে, কিন্তু কংগ্রেসের ডিএনএ-তে বিজেপির সাম্প্রদায়িক আদর্শের বিরোধিতা রয়েছে। তিনি মালদহ-মুর্শিদাবাদের ভোটারদের কাছে আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা বিভ্রান্ত না হয়ে কংগ্রেসের ওপর আস্থা রাখেন।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: বাংলায় ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাহুলের এই তীব্র আক্রমণ যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। বিশেষ করে মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ— যা কংগ্রেসের পুরনো ঘাঁটি বলে পরিচিত, সেখানে নিজেদের জমি ফিরে পেতেই তৃণমূলকে এক ইঞ্চিও ছাড় দিতে নারাজ হাইকমান্ড।





