তৃণমূল কার্যালয়ে অস্ত্রভাণ্ডার! তলোয়ার-ভোজালি উদ্ধার ঘিরে দুর্গাপুরে চরম চাঞ্চল্য

দুর্গাপুরের কমলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ থাকা ওই কার্যালয়টি খোলার পর স্থানীয়দের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। উদ্ধার হয়েছে ভোজালিসহ একাধিক ধারালো অস্ত্র এবং সেইসঙ্গে কুখ্যাত ‘সাদা থান’, যা নিয়ে এলাকা জুড়ে এখন আতঙ্কের পরিবেশ। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই কার্যালয়টি কোনো রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়, বরং অসামাজিক কার্যকলাপ ও অবৈধ পাথর খাদানের কোটি কোটি টাকা লেনদেনের গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

দুর্গাপুর পূর্ব ১ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক দিব্যেন্দু গায়েন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, “এই কার্যালয়টি কার্যত অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল। এলাকার মানুষের ওপর খবরদারি চালানো এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য এই অস্ত্রগুলি মজুত করা হয়েছিল। আমাদের স্পষ্ট সন্দেহ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার উদ্দেশ্যেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। আমরা অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

শুধুমাত্র অস্ত্রই নয়, ওই কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র বিজেপি নেতাদের নতুন অভিযোগের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এলাকাভিত্তিক অবৈধ পাথর খাদানের কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের হিসাব রয়েছে ওই ফাইলগুলিতে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উদ্ধার হওয়া ‘সাদা থান’ এবং ‘হুমকি চিঠি’ নিয়ে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের বাড়ির দরজায় এই সাদা থান রেখে আসত। চিঠিতে সরাসরি লেখা থাকত—ভোট মিটলেই বিজেপি কর্মীদের মা ও স্ত্রীদের বিধবার জীবন কাটাতে হবে। এই ধরনের নগ্ন হুমকি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরির নেপথ্যে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের হাত রয়েছে বলেই দাবি বিজেপির।

ঘটনার খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। শাসকদলের স্থানীয় নেতারা এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কোনো তৃণমূল নেতাই এই অস্ত্র বা ফাইল উদ্ধারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি অস্ত্র ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটি বর্তমানে পুলিশি নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।

এই অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ খাদানের লেনদেনের হিসাব প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় কীভাবে অস্ত্রভাণ্ডার ও অবৈধ বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে উঠল? পুলিশী তদন্তের পর এই চক্রের মূল হোতাদের মুখোশ খুলে পড়বে বলে আশা করছে স্থানীয় মানুষ।