রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড়সড় পরিবর্তন! ফলতা বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বড় ধাক্কা শাসকদলের অন্দরে। সোমবার ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৮ জন একসঙ্গে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন। তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ডায়মন্ড হারবারে কাউন্সিলরদের এই গণইস্তফা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
কেন এই গণইস্তফা? ডায়মন্ড হারবার মহকুমা শাসকের দপ্তরে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পর পদত্যাগী কাউন্সিলরদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের পেছনে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ ও ‘উন্নয়নের অভাব’কে তুলে ধরেছেন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অমিত সাহা বলেন, “আমরা ডায়মন্ড হারবারের মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সারা রাজ্যে উন্নয়নের যে জোয়ার আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আমরা তার সঙ্গেই থাকতে চাই।”
রাজনৈতিক সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হতে শুরু করেছে। একের পর এক পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণইস্তফা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল ডায়মন্ড হারবার নয়, ভাটপাড়া, হালিশহর, কাঁথি সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাতেও এই ধরণের গণইস্তফার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। ভাটপাড়াতেও চেয়ারম্যান সহ প্রায় ৩০ জন কাউন্সিলর সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন।
তৃণমূলের অস্বস্তি: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে এই ধরণের বিদ্রোহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে পুলিশের গ্রেপ্তার ও অন্যদিকে কাউন্সিলরদের দলত্যাগের হিড়িক—সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক বিপর্যয় কি আসন্ন? এখন এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দল কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।





