জ্বালানির দামে ‘সেঞ্চুরি’! ১১ দিনে ৪ বার মূল্যবৃদ্ধি, পথে বসার জোগাড় পরিবহণ শিল্পের

গত ১১ দিনে পরপর চারবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। পেট্রোল ও ডিজেলের এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে কার্যত মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার জোগাড় হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ শিল্পের। বাসের চাকা সচল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাস মালিকদের কাছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে এবং পরিবহণ ব্যবস্থাকে বাঁচাতে এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন মালিক সংগঠনগুলি।

সংকট কতটা গভীর? পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের পরিবহণ পরিকাঠামো এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে। একসময় সারা রাজ্যজুড়ে বেসরকারি বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজারের কাছাকাছি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ থেকে ৩০ হাজারে। অর্থাৎ, প্রায় ১৫ হাজার বাস গত কয়েক বছরে রাস্তা থেকে উঠে গিয়েছে। মালিকদের দাবি, প্রতিদিন ডিজেলের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে বাসের দৈনিক খরচ উঠছে না। এর ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ।

মালিক সংগঠনের দাবি: বাস মালিকদের বক্তব্য, “আমরা পরিষেবা দিতে চাই, কিন্তু লোকসান দিয়ে বাস চালানো অসম্ভব। গত ১১ দিনে চারবার দাম বাড়ল, অথচ বাসের ভাড়া অপরিবর্তিত। এই অবস্থায় ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।” তাঁদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সড়ক কর ও বিমার বোঝা পরিবহণ শিল্পকে চূড়ান্ত বিপাকে ফেলেছে।

শুভেন্দুর হস্তক্ষেপের আবেদন: পরিবহণ শিল্পের এই মরণাপন্ন দশা থেকে উদ্ধার পেতে মালিকরা এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন যাতে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পরিবহণ শিল্পের জন্য বিশেষ ভর্তুকি বা কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে, ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবিও তোলা হয়েছে।

প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ: পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অবিলম্বে এই পরিস্থিতির সমাধান না হয়, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।

বাস মালিকদের এই দাবি এবং পরিবহণ শিল্পের সংকট মোকাবিলায় সরকার কি কোনো বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, নাকি পরিবহণ পরিষেবা আরও সংকুচিত হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy