তারাতলা কাণ্ডে আরও এক জনের মৃত্যু, কাঠগড়ায় ফিরহাদ হাকিম; সুর চড়ালেন শুভেন্দু

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ক্রমশ বাড়ছে শোকের ছায়া। শুক্রবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেক সরকারের মৃত্যুতে এই দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬-তে। এখনও ১৯ জন আহত হাসপাতালে লড়াই চালাচ্ছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার সকালে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মর্মান্তিক পরিণতির শিকার যারা
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন— কৃষ্ণা চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পপ্পু কুমার রজক, ঘি কুমার, আসগর হুসেন, সাহিল সর্দার, হাসান ইমাম, গণেশ কালিন্দী, নবীন সিং এবং স্বপন মন্ডল। একের পর এক তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
আইনি পথে SIT-এর তদন্ত
দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা গাফিলতি খুঁজে বের করতে তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লিজ-হোল্ডার সংস্থার কর্তা তথা প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে পারদ
এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি এখন রণক্ষেত্র। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শাসক দল ও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্মাণাধীন ওই গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যানে ত্রুটি ছিল এবং সেই বিতর্কিত প্ল্যানে স্বাক্ষর ছিল ফিরহাদ হাকিমেরই। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বিল্ডিং প্ল্যান ত্রুটিযুক্ত, কাউকে ছাড়া হবে না।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে।
দুর্ঘটনার এতগুলো দিন পেরিয়ে গেলেও রেশ কাটছে না জনমানসে। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর আর্তনাদ, অন্যদিকে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা—সব মিলিয়ে তারাতলা কাণ্ড এখন রাজ্যের অন্যতম বড় চর্চার বিষয়।