ল্যাডেলে তলিয়ে গেলেন ঠিকা শ্রমিক! দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে সুরক্ষার গাফিলতি ঘিরে উঠল প্রতিবাদের ঝড়

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে (DSP) এক মর্মান্তিক ও রহস্যময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৬ বছর বয়সী এক ঠিকা শ্রমিক। নিহত শ্রমিকের নাম শেখ শাহিদুল, তিনি দুর্গাপুরের ফরিদপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর উত্তপ্ত রইল ইস্পাত কারখানা চত্বর। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন।
শনিবার দুপুরে ডিএসপি-র ২ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেস এলাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। জানা গিয়েছে, শাহিদুল তার সহকর্মী মনোজ রুইদাসের সঙ্গে ওই প্ল্যান্টে কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সহকর্মী মনোজের বয়ান অনুযায়ী, কাজের মাঝখানে তিনি সামান্য সময়ের জন্য প্ল্যান্টের বাইরে বিরতি নিতে যান। ফিরে এসেই তিনি শাহিদুলকে খুঁজে পাননি। চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু হতেই ভয়াবহ সত্য সামনে আসে। ল্যাডেলের ভেতরে ফুটন্ত তরল লোহার মধ্যে শাহিদুলের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনি ওই ফুটন্ত লোহার পাত্রে পড়লেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। শ্রমিকদের একাংশের ধারণা, কাজের সময় কোনো লোহার রড বা প্ল্যাটফর্ম ভেঙে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা কারখানার মেইন গেটের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, মৃতের পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবারের একজনকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বারবার বলার সত্ত্বেও শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি আসরে নামে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন ডিএসপি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ-এর কাছেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। কর্মক্ষেত্রে এমন ভয়াবহ ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা শিল্পাঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ হচ্ছিল কি না, এবং শাহিদুলের মৃত্যুর নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মানবিক ভুল ছিল—তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।