জঙ্গলে তাঁবু খাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পরিকল্পনা! কেরলে ৩ ছাত্র-ছাত্রীর এমন পলায়ন দেখে হতবাক পুলিশ

কেরলের কোঝিকোড় জেলার থামারাশেরি থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুল পড়ুয়ার রহস্যজনক পলায়নের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দশম শ্রেণির এক ছাত্রী এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির তার দুই বন্ধুর এই দুঃসাহসিক অভিযান অবশেষে শেষ হয়েছে ওয়ায়ানাড়ের এক পাহাড়ি এলাকায়। শুক্রবার গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের শনাক্ত করে আটক করলে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। প্রতিদিনের মতোই স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রী। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ স্কুলে না পৌঁছানোয় শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করলে স্কুলের অদূরে একটি রবার বাগান থেকে ওই ছাত্রীর স্কুল ইউনিফর্ম পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। এরপরই প্রকাশ্যে আসে যে, একই স্কুলের ১৭ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র এবং একাদশ শ্রেণির আরেক ছাত্রও নিখোঁজ। তাদের দুটি সাইকেলেরও কোনো হদিস মিলছিল না।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও পরিবার যে তথ্য পেয়েছে, তা রীতিমতো শিহরণ জাগানিয়া। জানা গিয়েছে, বাড়ি ছাড়ার আগেই তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পালানোর ছক কষেছিল। সাইবার সেলের নজরদারি এড়াতে তারা প্রথমেই দলের এক সদস্যের প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের স্মার্টফোনটি থামারাশেরির একটি দোকানে মাত্র ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। বাকি দুটি মোবাইল ফোন তারা শুরুতেই সুইচ অফ করে ফেলেছিল।
আরও অবাক করা বিষয় হলো, তারা স্রেফ বাড়ি থেকে পালিয়ে কোথাও আশ্রয় নেওয়া বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরোয়নি। বরং তাদের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা। এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে তারা আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে ত্রিপল, চাল, পাউরুটি, রান্নার পাত্র এবং ছুরি সঙ্গে নিয়ে নিয়েছিল। যেন তারা কোনো অভিযাত্রী দলের সদস্য হিসেবে দুর্গম অরণ্যে আস্তানা গড়তে নেমেছে।
উদ্ধারের পর শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ও এই ধরনের চরম পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে আসল কারণ কী, তা নিয়ে মনোবিদ ও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। তারা কি সিনেমার প্রভাব, ব্যক্তিগত কোনো টানাপোড়েন, নাকি নিছক রোমাঞ্চের খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিল—সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত তিনজনকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই ঘটনা নতুন করে সতর্ক করেছে অভিভাবক ও শিক্ষকদের, কারণ প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের যুগে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এমন অবাস্তব রোমাঞ্চকর জীবনের প্রতি ঝোঁক বর্তমান সমাজে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।